Breaking News
Home / Top News / সব দলকে কাজ করতে হবে ‘জাতির স্বপ্ন পূরণে’ : রাষ্ট্রপতি

সব দলকে কাজ করতে হবে ‘জাতির স্বপ্ন পূরণে’ : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ , জাতীয় সংসদকে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অভিহিত করে সরকারি ও বিরোধী দলসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। রোববার দশম জাতীয় সংসদের শেষ বছরের প্রথম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশী সময় ধরে দেয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে রাষ্ট্রপতি ,বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

আব্দুল হামিদ বলেন, বর্তমান সরকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অভূতপূর্ব গতিশীলতা সঞ্চারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐকান্তিক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহতকরণ এবং জাতির অগ্রযাত্রার স্বপ্ন ও আকাঙ্খার সফল বাস্তবায়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও পালন করতে হবে গঠনমূলক ভূমিকা ।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা সমুন্নত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুজ্জ্বল রাখতে দেশ থেকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সম্পূণরূপে নির্মূলের মাধ্যমে শোষণমুক্ত সমাজ-প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে বাঙালি জাতিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। একাত্তরের শহিদদের নিকট আমাদের অপরিশোধ্য ঋণ রয়েছে। আসুন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।’

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সমুন্নত এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রেখে ২০১৪ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয় এবং বর্তমান সরকারের ওপর দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দিনবদলের সনদ-‘রূপকল্প-২০২১’ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নিম্নমধ্য-আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এখন জাতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে ২০৪১ সালের দিকে-বিশ্বসভায় একটি উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার মানসে।দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে আব্দুল হামিদ বলেন, জাতির পিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী পলাতক খুনিদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলমান আছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলাটি বিচারিক আদালতে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পর্যায়ে আছে। জঙ্গিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। তাই, স্বস্তি ফিরে এসেছে জনমনে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার দারিদ্র্যনিরসন এবং বৈষম্য দূর করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রথমবারের মত দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হিসাবে ‘বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা’ এবং মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসাবে দুটি ‘পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করে। এ পরিকল্পনার মৌলিক উদ্দেশ্য হলো- উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে উন্নীতকরণ।আব্দুল হামিদ বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ-বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক দুই-আট শতাংশ। সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং দেশীয় শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে যুগোপযোগী ‘রপ্তানি নীতি ২০১৫-১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে সকল ক্ষেত্রে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান কমিশন এ পর্যন্ত কুমিল্লা ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, দশম জাতীয় সংসদের ২টি উপ-নির্বাচন, ৫টি পৌরসভা ও ৪টি উপজেলা পরিষদ এবং ১৩৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনসহ বেশকিছু স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে।রাষ্ট্রপতি বলেন, শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের যে পথ আমরা পারি দিচ্ছি, তা আমাদেরকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। বিশ্বসভায় ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সামাজিক অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্মানজনক অবস্থানে সমাসীন হয়েছে এবং অচিরেই একটি উন্নত দেশ হিসাবে আপন মহিমায় উদ্ভাসিত হবে। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী-সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়ন এবং সমাজের সকল স্তরে প্রত্যক্ষ জন-সম্পৃক্তির মধ্য দিয়ে আমরা সক্ষম হব নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ অর্জনসহ একটি আদর্শ সমাজভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে।

About protidin khabor