মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে আহত টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে একটি বিশেষায়িত লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়।
আফনানের চাচা মাওলানা মো. শওকত জানান, পরিবারের তত্ত্বাবধানেই আফনানকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিজিবি এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করছে। তিনি জানান, আফনানকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল (নিনস)–এ ভর্তি করা হবে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হুজাইফাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। লাইফ সাপোর্টে রেখেই বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সে তাকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজিবির একজন প্রতিনিধি শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন।
মেডিকেল বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ৯ বছর বয়সী হুজাইফার শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। বর্তমানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
চমেক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া ও আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ জানান, শিশুটির অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বিজিবির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তাব করা হলে মেডিকেল বোর্ড বিষয়টি পর্যালোচনা করে সম্মতি দেয়।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে আরাকান আর্মির সঙ্গে আরসা, আরএসও ও নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে চলমান গোলাগুলির প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায়। এতে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রোববার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হন বাংলাদেশি শিশুটি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পর শিশু আফনানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিক্ষুব্ধ জনতা তেচ্ছিব্রিজ অংশে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তবে দুপুরের দিকে শিশুটি জীবিত থাকার খবর পৌঁছালে স্থানীয়রা শান্ত হন।