ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কিছু প্রার্থী ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
বুধবার দুপুরে নয়া পল্টনে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ তুলে ধরে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
কারো নাম না নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “কিছু কিছু প্রার্থী এমন কথাবার্তা বলছেন, ওইগুলো উসকানিমূলক কথাবার্তা। তাদের যে কাজকর্ম, তাদের কথাবার্তা অত্যন্ত উসকানিমূলক। তারা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা লঙ্ঘন করে অন্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আপনি খেয়াল করে দেখবেন, আমি যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি সেই আসনের কিছু কিছু প্রার্থী আমার সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতেছে।
“তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলছে, যাতে আমরা একটু ইরিটেটেড হই। এই ব্যাপারে আমি নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানাব, তারা যেন একটু খেয়াল রাখেন।”
তবে নিজে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে চান না মন্তব্য করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমি এই ব্যাপারে কোন রিঅ্যাকশন দিতে চাই না, দিবও না। আমরা চাই, নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক এবং সুন্দর হোক।”
‘এখন প্রচারণায় আসিনি, দেখা–সাক্ষাৎ’
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা এখনো ফরমাল নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করি নাই। এখন এমনি দেখা-সাক্ষাৎ করা, এলাকার মধ্যে কথাবার্তা বলার জন্য বেরিয়েছি। যে এলাকায় আমি থাকি সেই এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা এটুকুই করছি । নির্বাচনের পরিচালনা শুরু করিনি।
“কিন্তু এর মধ্যে আমি লক্ষ্য করছি, বেশ কিছু প্রার্থী তারা কিন্তু পরিচালনা চালাচ্ছে রীতিমতো। আমি সেরকম সেদিকে যাচ্ছি না। আমি শুধুমাত্র স্বাভাবিকভাবে যেটা করা দরকার একজনের দেখা সাক্ষাৎ করা আমি সেটাই করতেছি। আমি ভোট প্রার্থী প্রার্থনা করছি না, ভোট চাচ্ছিও না। যখন নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হবে তখন ইনশআল্লাহ আমরা যথাযথভাবে আমাদের কাজ শুরু করব।”
‘পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রসঙ্গে’
মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি যেটা দেখেছি, সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে এটা একেবারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা হয়েছে। যাতে ব্যালট পেপারটা কনফিউজিং হয়ে যাবে, সিল মারার পরে এটা কনফিউজিং হয়ে যাবে।
“আমি মনে করি নির্বাচন কমিশনের এটাকে ঠিক করা উচিত ইমিডিয়েটলি এবং এটা ঠিক না করে পেপার কোথায় যাওয়াও ঠিক না। আমি আশা করব নির্বাচন কমিশন এটাকে সুদৃষ্টি দেবেন এবং যাতে বিষয়টা পক্ষপাতমূলক না হয় এটা যেন তারা চেষ্টা করেন।”
শাহজাহানপুরে এক প্রার্থীর বাড়ির দিকে বুলডোজার নিয়ে যাওয়া হবে বলে এক তরুণ রাজনৈতিক কর্মীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি শুনেছি, একটা কথা হচ্ছে, মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, করা উচিতও না। ঢাকা শহরে আমি আল্লাহর রহমতে ভেসে আসি নাই। একবারে যা ইচ্ছা তাই করে ফেলবে…ওটা সম্ভব না। চেষ্টা করতে পারে তবে এটার দায়-দায়িত্ব ওদেরকে বহন করতে হবে।
“আমার শাহজাহানপুরের দিকে আসবে কেন ভাই? আমি কি অপরাধ করছি নির্বাচন দাঁড়িয়ে? আমি নির্বাচন আজকে থেকে করি না… এটা নিয়ে আমার প্রায় পাঁচ/ছয়বারের মত নির্বাচনে প্রতিনিধিতা করছি। যারা নাকি একান্তেই দুর্বল প্রার্থী তারা সবল প্রার্থীর বিরুদ্ধে কথা বলবেই আমি এনাকে খুব একটা গায়ে মাখছি না।”
‘আইনশঙ্খলা পরিস্থতির নিয়ে শঙ্কা’
মির্জা আব্বাস বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমি নিয়েও খুব শঙ্কিত কারণ কয়েকদিন আগেও আমাদের একজন কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। গতকালও একজনের উপরে আক্রমণ করা হয়েছে। আইনশঙ্খলা পরিস্থিতিটা যাতে আরো খারাপ হয় এজন্য কিছু কিছু প্রার্থী কথাবার্তা বলছে।”
উস্কানিমূলক কথাবার্তা না বলতে বা এ ধরনের কোনো কাজ না করতে এলাকার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, “আমি নেতা-কর্মীদের বলব, যে কোনো উস্কানি হোক, উস্কানি দিক উত্তেজিত হওয়া যাবে না, নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকতে হবে।”