নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল প্রতি শীতে অসংখ্য পরিযায়ী (অতিথি) পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু অসাধু শিকারির কারণে দিন দিন এই বিলে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
শীত মৌসুমে খাদ্য ও উষ্ণতার খোঁজে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব অতিথি পাখিকে শিকার করে অর্থের লোভে বিক্রি করার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে একটি চক্র। এ অবস্থায় দেশজুড়ে অতিথি পাখিসহ সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এরই মধ্যে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকালে (২২ জানুয়ারি) সকালে নওগাঁর রাণীনগরের রক্তদহ বিল পর্যটন এলাকা ও পাখি পল্লীর পাশে এক শিকারি সাতটি পরিযায়ী পাখি শিকার করে এবং পরে সেগুলো এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। বিষয়টি জানতে পেরে ভাটকৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তাবন্দি অবস্থায় থাকা পাখিগুলো উদ্ধার করেন এবং সেগুলো মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেন। এ সময় এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে রক্তদহ বিলকে অতিথি পাখির জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে রক্তদহ বিলে বিপুলসংখ্যক পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। কিন্তু তিন শ্রেণির মানুষের কারণে এসব পাখি নিরাপদ থাকতে পারছে না—যারা পাখি শিকার করে, যারা সেগুলো বিক্রি করে এবং যারা খাওয়ার জন্য ক্রয় করে।
তিনি এই চক্রের বিরুদ্ধে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান এবং তথ্য দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে সহায়তা করার অনুরোধ করেন। সকল প্রকার লোভ পরিহার করে রক্তদহ বিলকে অতিথি পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।