ক্রীড়াঙ্গণের তারকাদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ নতুন কিছু নয়। প্রতিবারই বিভিন্ন দলের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ক্রীড়াবিদরা। এবারও তার ব্যাতিক্রম হচ্ছে না। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন ক্রীড়াঙ্গণের এক ঝাক সাবেক তারকা।
জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিই মনোনয়ন দিয়েছে প্রায় ২৮ ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে। তাদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সাফজয়ী অধিনায়ক আমিনুল হক, সাবেক তারকা ফুটবলার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
ভোলা-৩ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া হাফিজ উদ্দিন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিনের অবশ্য প্রথম পরিচয় ফুটবলার। স্বাধীনতার আগে তিনি ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য। খেলা ছাড়ার পর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি এবারও ভোলা-৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন।
বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলকিপার আমিনুল হক। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশ্বস্ততা অর্জন করে আমিনুল এবার লড়বেন ঢাকা-১৬ আসনে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে শুরু করেছেন গণসংযোগ। পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছেন নানাভাবে।
সরাসরি মাঠের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকলেও সংগঠক হিসেবে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকা অনেকেই এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের সঙ্গে। কিছুদিন ক্লাবটির গভর্নিং বডির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের রাজনীতিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ মির্জা ফখরুল এবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়বেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। বেগম খালেদা জিয়া যে দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, মির্জা আব্বাসকে দেখা গেছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। একটা সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন তিনি। মোহামেডান গভর্নিং বডির সাবেক সদস্য সচিব মনিরুল হক চৌধুরী এবার কুমিল্লা-৬ আসন থেকে বিএনপির হয়ে লড়বেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি ও ঢাকা আবাহনীর সাবেক পরিচালক আলী আসগর লবি লড়ছেন ধানের শীষ প্রতীকে খুলনা-৫ আসনে।
মোহামেডানের দুঃসময়ের সঙ্গী, ক্লাবটির পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি শরীফুল আলম, সাবেক চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক নোয়াখালী-২, ভিক্টোরিয়া ক্লাবের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন নরসিংদী-১, আবাহনীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ-২, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনে লড়বেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।
সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় ও বেগম জিয়ার আমলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা এহসানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ আসন থেকে হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। সদ্য সমাপ্ত বিপিএল খেলা ঢাকা ক্যাপিটালসের অন্যতম মালিক নজরুল ইসলাম আজাদ নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়া আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাবেক সভাপতি শেখ ফরিদউদ্দিন আহমদ মানিক চাঁদপুর-৩, বাফুফের কাউন্সিলর ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়-২, বাফুফের কাউন্সিলর শাহ ওয়ারেস আলী মামুন জামালপুর-৫, যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্রের সভাপতি নবী উল্লাহ নবী ঢাকা-৫, দিলকুশা ক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রশিদ হাবিব ঢাকা-৯, বিসিবির কাউন্সিলর চেয়ারম্যান মীর হেলাল চট্টগ্রাম-৫ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়াই করবেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সিনিয়র সহসভাপতি ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি আবদুস সালাম মনে করেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব নির্বাচনমুখী হওয়ার ফলে দেশের রাজনীতিতে একটা শুদ্ধতার রীতির প্রচলন ঘটবে, ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা যদি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেয় তবে এ দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে ভাবতে হবে না। আমরা আশা করব, যারা আগামীতে নির্বাচিত হবেন, তারা ক্রীড়ার উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবেন।
প্রসঙ্গত, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যূত আওয়ামী লীগের নির্বাচন করেছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা, সাকিব আল হাসান, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, আরিফ খান জয়, সালাম মুর্শেদী। মাঠের তারকাখ্যাতি রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজে লাগিয়ে তারা জয়ী হয়েছিলেন।