নয় বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী বাজারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় ২৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের প্রথম বিচারিক হাকিম আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ।
প্রতিবেদনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে তাগাদা দিয়েছিল আদালত।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মামলার বাদী মোহাম্মদ এনামুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দ্রুত বিচার আইনে আমার করা মামলাটিতে পুলিশ ২৬ আসামির সবাইকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
“পরবর্তী শুনানির দিনে আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানি করবেন। প্রতিবেদন গৃহীত হলে যেহেতু সব আসামিরা পলাতক, তাই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।”
যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন—রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুজ্জোহা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন—সরওয়ার, নাজিমুদ্দিন, রাসেল, মহসীন, জাহেদ, আলমগীর, নঈমুল ইসলাম, পাভেল বড়ুয়া, জাহেদ, ইকবাল হোসেন, নাহিম, এনামুল হক, রাসেল, সাইফুল, মাহাবুব, আনোয়ার, নেসার উল্লাহ, বেলাল, মুজাহিদ, বাপ্পা ও হারুনকে।
২০০৭ সালের ১৮ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্থদের সহমর্মিতা জানাতে যাওয়ার পথে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ নেতাদের বহনকারী গাড়ি বহর ইছাখালী বাজার এলাকায় হামলার শিকার হয়।
সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী হামলার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ও রাঙ্গুনিয়ার তৎকালীন সাংসদ হাছান মাহমুদকে দায়ী করেন।
তখন হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, “বিএনপি নেতাদের গাড়িবহরের ধাক্কায় দু’জন আহত হওয়ার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।”
পরে আবার বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে এ হামলা বলেও মন্তব্য করেছিলেন হাছান মাহমুদ।
হামলার ঘটনায় ২০১৭ সালের ২২ জুন আদালতে মামলাটি করে বিএনপিপন্থি আইনজীবী ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক। ওই মামলায় ২৬ জন স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।