শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত একটি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। চেয়ার নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
জামায়াত নেতাদের অভিযোগ, বিএনপি সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন বলে তারা দাবি করেন। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রেজাউল করিম মারা যান বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা। তারা দাবি করেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চিকিৎসা ও মৃত্যুর তথ্য
সংঘর্ষে আহত রেজাউল করিমকে প্রথমে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে স্থানান্তরের প্রস্তুতিকালে তিনি মারা যান বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের অবস্থান
ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রীবরদী থানার একটি সূত্র জানায়,
“ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। কারা জড়িত ছিল তা শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে, তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এলাকায় প্রভাব
রেজাউল করিমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শোক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।