জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক ইউনিয়ন শাখার সভাপতির ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান সম্প্রতি এলাকায় সাংগঠনিক ও সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করেন। তিনি জামালপুর–১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী–এর একজন ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মাওলানা মিজানুর রহমান দাবি করেন, তার এই রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণেই প্রতিদ্বন্দ্বী একটি দলের কিছু নেতাকর্মী তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গত কয়েকদিন ধরে তাকে মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তাকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে নাশকতা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং সে সময় তিনি রিমান্ড ও কারাবাসও ভোগ করেছেন। তার ভাষ্য, “বিভিন্ন মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছি, কিন্তু রাজনীতি ও সামাজিক কাজ থেকে সরে যাইনি। আমি এলাকায় ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।”
আজ (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট ও সবার কাছে দোয়া কামনা করেন বলেও উপস্থিত সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, এসব হুমকি পরিকল্পিতভাবে তাদের নির্বাচনী কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও হুমকি বা সহিংসতার পথ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বকশীগঞ্জ থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।