ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবি—সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে বৃহত্তর আন্দোলন
১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও সমমানের পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩% কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাবের প্রতিবাদে জামালপুর শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। রবিবার সকালে শহরের দয়াময়ী চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে কোটা প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদটি ঐতিহ্যগতভাবে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত। এখানে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩% কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চাকরির ক্ষেত্র মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে এবং পেশাগত কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হবে।
কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন প্রকৌশলী সৈয়দ আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, সড়ক, জনস্বাস্থ্য ও নির্মাণ খাতে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের ন্যায্য কর্মক্ষেত্রে অন্য ক্যাডারের জন্য কোটা সংরক্ষণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।
আইডিইবি (ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ প্রস্তাব কার্যকর হলে নতুন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাবে এবং পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
সদস্য সচিব প্রকৌশলী নূর মোহাম্মদ সাদী বলেন, “ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দীর্ঘদিনের পেশাগত অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”
বক্তারা জানান,আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সাথে লক্ষ্য করছি যে, এদেশের ৮ লক্ষাধিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও ৫ লক্ষাধিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পেশাগত দাবিসমূহের যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের নিমিত্ত কমিটির ২৭জানুয়ারি' ২৬ তারিখের সভায় সরকারের ১৯৭৮ সালের প্রজ্ঞাপনের আলোকে ১০ম গ্রেডভুক্ত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য শতভাগ সংরক্ষিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী/সমমানের পদে ৩৩% বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে । এ সিদ্ধান্তকে তারা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও দাবি করেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ লক্ষাধিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও ৫ লক্ষাধিক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তাদের কর্মজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তারা ৩১ জুলাই ১৯৭৮ ও ১৯ নভেম্বর ১৯৯৪ সালের সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে উক্ত পদ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য সংরক্ষিত রাখার দাবি জানান।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র-শিক্ষক-পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা সদরে একই দাবিতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি মেনে না নেওয়া হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।