আশুলিয়ায় যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ গ্রেপ্তার ৩, দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার
সামরুল হক, জামালপুর-১
আশুলিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযান:
যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ গ্রেপ্তার ৩, উদ্ধার দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল সদৃশ বস্তু
সামরুল হক, জামালপুর-১ প্রতিনিধি
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ভোররাতের বিশেষ অভিযানে যুবদলের এক নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ককটেল সদৃশ বস্তুসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সোয়া ৯টার দিকে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুবেল হাওলাদার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোর রাতে আশুলিয়ার বলিভদ্র তালপট্টি এলাকায় যৌথ বাহিনী (পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে) একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়:
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল (৪৫): সায়েদ আলী মন্ডলের ছেলে, তালপট্টি, আশুলিয়া। তিনি ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।
স্বপন ওরফে “চাপাতি স্বপন” (৪০): বগুড়া সদর থানার পাকা কাঞ্চনপুর এলাকার মৃত কবির হোসেনের ছেলে।
ফারজুল (৩৮): নওগাঁ জেলার বানি নগর থানার কাশিমপুর এলাকার রেজ্জাক সর্দারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, স্বপন ও ফারজুল জাহাঙ্গীর মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাম্প্রতিক সময়ে তার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
যা যা উদ্ধার করা হয়েছে:
অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—
১৬টি রামদা
৮টি চাপাতি
১৫টি ছোট ছুরি
২টি দা
১৯টি কাঠের লাঠি
৪টি মোবাইল ফোন
১২টি ককটেল সদৃশ বস্তু
উদ্ধার হওয়া এসব আলামত স্থানীয়ভাবে সম্ভাব্য নাশকতা বা সহিংস কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের বক্তব্য:
ওসি মো. রুবেল হাওলাদার বলেন,
“ভোররাতে যৌথ বাহিনী জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ তিনজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে ককটেল সদৃশ বস্তু রয়েছে—বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
আইনি পদক্ষেপ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইন ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জব্দ করা বস্তুগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা এবং গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।