জামালপুরের পাঁচ আসনেই বিএনপির বিজয়
..............................................
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জেলা রিটার্নিং অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল নিশ্চিত করা হয়। জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ফলাফলকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
ভোটগ্রহণ শেষে রাতভর গণনা শেষে প্রতিটি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হয়। পাঁচটি আসনেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়ী হওয়ায় জেলা জুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
◼ জামালপুর-১ আসন
জামালপুর-১ আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১২৮টি। সব কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ১১৫ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৬৬১ ভোট।
ব্যবধান দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ৪৫৪ ভোট।
◼ জামালপুর-২ আসন
জামালপুর-২ আসনে মোট কেন্দ্র ৯২টি। বিএনপির সুলতান মাহমুদ বাবু ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. ছামিউল হক পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪৩৪ ভোট।
এ আসনে ভোটের ব্যবধান ৩৩ হাজার ৪২৬।
◼ জামালপুর-৩ আসন
জামালপুর-৩ আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫৪টি। বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মুজিবুর রহমান আজাদী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট।
এ আসনে ব্যবধান দাঁড়ায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোট, যা জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধান।
◼ জামালপুর-৪ আসন
জামালপুর-৪ আসনে মোট কেন্দ্র ৮৮টি। বিএনপির মো. ফরিদুল কবীর তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট।
ব্যবধান ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ভোট।
◼ জামালপুর-৫ আসন
জামালপুর-৫ আসনে মোট কেন্দ্র ছিল ১৬১টি। বিএনপির মো. ওয়ারেছ আলী মামুন পেয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ১ ভোট।
এ আসনে ভোটের ব্যবধান ৬৭ হাজার ৩৪৩ ভোট।
রাজনৈতিক তাৎপর্য।
জেলার পাঁচটি আসনেই এককভাবে বিজয় অর্জন বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত জামালপুরে এমন ফলাফল ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও কৃতজ্ঞতা সমাবেশের আয়োজন করেন। দলীয় নেতারা একে “জনগণের রায়” হিসেবে উল্লেখ করে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও ভোটারদের ধন্যবাদ জানান।
জামালপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা—এই বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আগামী দিনে কীভাবে উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। জেলার পাঁচটি আসনে একযোগে বিজয় নিঃসন্দেহে বিএনপির জন্য এক বড় রাজনৈতিক বার্তা হয়ে উঠেছে।