জামালপুর–১ আসন থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর–১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান পেয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর তাঁর এই নিয়োগে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
বিপুল ভোটে বিজয়;
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মিল্লাত এক লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, মোহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদী, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পান ৯৬ হাজার ৭৮৩ ভোট। বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় আসনটিতে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংকের দৃঢ়তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আসনের ভোটার ও ভোটের পরিসংখ্যান;
জামালপুর–১ আসনটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৫ জন।
পুরুষ ভোটার: ২ লাখ ১৪ হাজার ১০৪ জন
নারী ভোটার: ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন
হিজড়া ভোটার: ২ জন
উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়—
বকশীগঞ্জ উপজেলা থেকে মিল্লাত পান ৫৯ হাজার ৩৭৯ ভোট
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে পান ১ লাখ ১৩ হাজার ১৮৯ ভোট
দুই উপজেলা মিলিয়ে তাঁর মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়ায় ১,৭৩,৬৫৬।
দলীয় দায়িত্ব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মিল্লাত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ফলে এলাকায় তাঁর একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তাঁর প্রতিমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হওয়া দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে।
জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক চিত্র:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ২০৯টি আসনে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং শরিক দলগুলো পেয়েছে ৯টি আসন। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে জয়ী হলেই সরকার গঠন করা সম্ভব। সে হিসেবে মোট আসনের ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ পেলেই একটি দল সরকার গঠন করতে পারে। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
বিজয়ের পেছনের কারণ বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পেছনে কাজ করেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—
দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে থেকে সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন
দলের ঐক্য ও তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয়তা
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার
প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও জিয়া পরিবারের ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা
বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণকে বড় একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁর নেতৃত্বে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় হওয়া এবং সুস্পষ্ট রাজনৈতিক রোডম্যাপ ঘোষণার ফলে বিএনপি নতুন উদ্যমে নির্বাচনে অংশ নেয়।
উন্নয়নের প্রত্যাশা:
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর স্থানীয়দের প্রত্যাশা—বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি জামালপুর–১ আসনে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জের মানুষ মনে করছেন, কেন্দ্রীয় সরকারে প্রতিনিধিত্ব বাড়ায় এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
সবমিলিয়ে, জামালপুর–১ আসন থেকে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের প্রতিমন্ত্রী হওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ এলাকার রাজনৈতিক ও উন্নয়ন প্রত্যাশার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।