আশুলিয়ায় প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
গভীর রাতে হামলা, ভাড়াটিয়াদের মারধর ও জোরপূর্বক ভাড়া আদায়ের দাবি
সামরুল হক:
প্রকাশিত: ৯:৩০ অপরাহ্ণ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় এক সৌদি প্রবাসীর ক্রয়কৃত জমি ও নির্মিত বাড়ি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাড়াটিয়াদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক ভাড়া আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থে প্রায় দুই বছর আগে তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর সেখানে একটি টিনশেড বাড়ি নির্মাণ করে নিজে বসবাসের পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জমি বিক্রির দীর্ঘ সময় পর এখন বিক্রেতারাই সেই জমি ও বাড়ি পুনরায় দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
যেভাবে ঘটেছে হামলা:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে এবং পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে আশুলিয়ার দক্ষিণ ভাদাইল ইসরাফিল মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সোমবার গভীর রাতে তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জোরপূর্বক ভাড়ার টাকা আদায় করে নিয়ে যায়। কিছু ভাড়াটিয়াকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।
পরদিন সকালে আবারও দলবল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে ভাড়াটিয়াদের বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাড়ির বাসিন্দারা।
অভিযুক্তদের পরিচয়:
অভিযুক্তরা হলেন দক্ষিণ ভাদাইল এলাকার মৃত তাহের আলী মাতাব্বর ওরফে মোহের আলীর ছেলে আবুল খায়ের (৬০) ও ইদ্রিস আলী (৫০)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইদ্রিস আলী ইউনিয়ন যুবদলের একজন নেতা।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
আনোয়ার হোসেন বলেন,
“আমি বৈধভাবে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেছি। দলিল-দস্তাবেজ সবকিছু আমার কাছে আছে। এখন তারা গায়ের জোরে আমার সম্পত্তি দখল করতে চায়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। আমি আমার পরিবার ও ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে আছি।”
তিনি আরও জানান, প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে স্বপ্নের এই বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই সম্পত্তি রক্ষা করাই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল খায়ের বলেন,
“আমরা প্রায় ১৫ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। এটি তার জমি নয়, তার জমি অন্য জায়গায়। বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি।”
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন,
“জমি সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রবাসীর অভিযোগ ও অভিযুক্তদের পাল্টা দাবির প্রেক্ষিতে এখন সবার নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হলে এ ঘটনার সুরাহা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।