বকশীগঞ্জে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জোরালো অভিযান
নিউজ প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সময়: ২:২০ মিনিট
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরে ব্যাপক ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বাজার তদারকি ও অনিয়ম উদ্ঘাটন:
অভিযানকালে পৌর শহরের কাঁচাবাজার, ফলের দোকান, মুদি ও নিত্যপণ্যের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি এবং ক্রেতাদের সঙ্গে অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া যায়।
এসব অনিয়মের দায়ে দুইজন ফল ব্যবসায়ীকে মোট ৮ হাজার টাকা এবং অন্যান্য কয়েকজন ব্যবসায়ীকে আরও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে এ অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
প্রশাসনের কড়া বার্তা:
অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল-হাসনা এবং জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম। তারা বলেন, রমজানকে ঘিরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিকভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার কোনো সুযোগ নেই।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে মূল্য বৃদ্ধি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
ক্রেতাদের স্বস্তি ও প্রত্যাশা:
অভিযান চলাকালে বাজারে উপস্থিত সাধারণ ক্রেতারা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারবে না এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে পণ্য কিনতে সক্ষম হবে।
অব্যাহত থাকবে নজরদারি:
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রমজান মাস জুড়ে বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অনিয়মের তথ্য প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের এই কঠোর মনিটরিং কার্যক্রমে বকশীগঞ্জের বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।