খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাগর হত্যা: ৩ অ্যাঙ্গেলে তদন্ত, ৪ জনকে ধরতে র্যাবের সহায়তা চাইল পুলিশ
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
সামরুল হক
খুলনায় যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার আসামি সাগর শেখ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাঙ্গেল সামনে রেখে তদন্ত চালাচ্ছে রূপসা থানা পুলিশ। মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনকে আটক করা হলেও বাকি চারজনকে গ্রেপ্তারে র্যাব-৬-এর সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।
ঘটনাপ্রবাহ
গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে খুলনার রূপসা সেতু-এর পূর্ব পাশের জাপুসা এলাকার চৌরাস্তার কাছে সাগর শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ট্রিপল নাইনে ফোন পেয়ে পুলিশ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রূপসা থানা-এ এফআইআর নম্বর ৭ হিসেবে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের মা রেখা বেগমের দায়ের করা মামলায় যশোরের দুটি প্রতিপক্ষ গ্রুপকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
পুলিশের শনাক্ত করা ছয়জন হলেন—
যশোর রেলগেট এলাকার শ্যামলী বেগম
তুহিন মোল্লা (২৮)
শফিকুল ইসলাম বাবু
কুদরত খান (৩০)
খুলনার মিরাজ
সোহেল
এর মধ্যে শ্যামলী বেগম ও মিরাজকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে অধিনায়কের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
তিনটি অ্যাঙ্গেলে তদন্ত
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য তিনটি অ্যাঙ্গেল সামনে এসেছে—
১. ভাই হত্যার প্রতিশোধের জেরে সংঘাত
২০২৪ সালের ৮ মার্চ সাগরের ভাই, বহুল মামলার আসামি রমজানকে নিজ এলাকায় হত্যা করা হয়। ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে সাগর সরব ছিলেন। অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি ও হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সঙ্গে তার উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।
২. তুহিনের স্ত্রীকে বিয়ে ঘিরে বিরোধ
রেলগেট এলাকার মামলার আসামি তুহিনের স্ত্রী ডলিকে নিয়ে বিয়ে করায় নতুন করে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তুহিন পক্ষ সাগরের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
৩. রূপসায় বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসা কেন্দ্রিক বিরোধ
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সাগর খুলনার রূপসা এলাকায় স্ত্রীর নামে জমি কিনে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন। একই সঙ্গে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী বলয়ের সঙ্গে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সেই চক্রও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের বক্তব্য
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাগর শেখের হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য তিনটি দিক সামনে রেখে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে দু’জনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি চারজন পলাতক। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ ও অন্য কারও সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যেই থাকুক, সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।