আশুলিয়ায় স্বামীকে না পেয়ে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
প্রকাশিত: ২৬-০২-২০২৬
সামরুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আশুলিয়া এলাকায় স্বামীর সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে স্বামীকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে মারধর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে জাকির হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত গৃহবধূ হামিদা আক্তার শিলা (২৪) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনাস্থল ও সময়:
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আশুলিয়ার ভাদাইল পবনারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হামিদা আক্তার শিলা স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন ফরাজীর স্ত্রী। অভিযুক্ত জাকির হোসেন একই এলাকার মনির হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া বলে জানা গেছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে অভিযুক্ত জাকির হোসেন শিলার স্বামী দেলোয়ার হোসেনের খোঁজে তাদের বাসার সামনে যায়। এ সময় স্বামীকে না পেয়ে শিলার সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তাকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে।
একপর্যায়ে জাকির তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে শিলার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তিনি সরে যাওয়ায় আঘাতটি তার ডান হাতে লাগে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার:
শিলার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত জাকির হোসেন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিলাকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
স্বামীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগীর স্বামী দেলোয়ার হোসেন ফরাজী বলেন,
“আমি একজনের কাছে কিছু টাকা পাইতাম। সেই টাকা চাওয়া নিয়ে জাকিরের সঙ্গে আমার কথা কাটাকাটি হয়। গতকাল রাতে সে হঠাৎ আমার বাসার সামনে যায়। আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রীর ওপর হামলা চালায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
পুলিশের বক্তব্য:
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা-র উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল্লাহ আকন্দ বলেন,
“ভাদাইল পবনারটেক এলাকায় এক নারীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার রাতে আমরা তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকায় উদ্বেগ:
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এভাবে বাড়িতে ঢুকে নারীর ওপর হামলা আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি। তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপই পারে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করতে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।