ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা-এর আশুলিয়া ইউনিয়ন-এর শুটিং বাড়ি এলাকায় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন হাবিবুর রহমান গেল্লা নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তার এই কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার কিশোর ও যুব সমাজ ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামাজিক পরিবেশ ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
নিজ বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার অভিযোগ
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, শুটিং বাড়ি এলাকায় অবস্থিত নিজের একটি টিনসেট বাড়ি থেকেই হাবিবুর রহমান গেল্লা নিয়মিতভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইয়াবা, ভারতীয় ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে যুবক-যুবতীদের কাছে সরবরাহ করেন। দিন-রাত তার বাড়িতে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায় বলে জানিয়েছেন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
একজন সচেতন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের সন্তানরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন তরুণদের ওই বাড়ির আশপাশে দেখা যায়। আমরা আতঙ্কে থাকি।”
স্থানীয় কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ:
এলাকাবাসীর দাবি, এ ব্যবসার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—
১। হাবিবুর রহমান গেল্লা ( শুটিং বাড়ি)
২। রবিন (গ্রাম: খেজুর বাগান-টংগাবাড়ি)
৩। মোক্তার (গ্রাম: রংপুর)
৪। মোঃ নজরুল (গ্রাম: আশুলিয়া, শুটিং বাড়ী, আওয়ামীলীগ নেতা)
৫। জাকির (গ্রাম: টংগাবাড়ি)
৬। শাহানাজ ডাকনাম (মেডাম) শুটিং বাড়ি, বাড়ির মালিক
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির আশঙ্কা:
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার প্রভাব পড়েছে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা। তাদের মতে, মাদক সহজলভ্য হওয়ায় অনেক তরুণ অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়ছে।
এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, “আগে আমাদের এলাকা শান্ত ছিল। এখন প্রায়ই ছোটখাটো অপরাধের ঘটনা শুনতে পাই। মাদকের কারণে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
একাধিক মামলা ও কারাভোগের অভিযোগ:
এলাকাবাসীর দাবি, হাবিবুর রহমান গেল্লার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি কয়েকবার কারাভোগ করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি আবারও প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আশুলিয়া এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী বলেন, “যুব সমাজকে বাঁচাতে হলে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
লোকেশন: আশুলিয়া, শুটিং বাড়ি, দারুল উলুম ইংলিশ মিডিয়াম মাদ্রাসার সামনে টিনসেট বাড়িটি মাদক ব্যবসায়ী গেল্লার বাড়ি,
গেল্লা নাম বললে সবাই তাকে চিনে