বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আর আগের মতো একমুখী হবে না বলে মনে করছেন দুই দেশের বিশ্লেষকরা। তাদের মূল্যায়ন, ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে পরিস্কার বার্তা পেয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।
তাই পারস্পরিক সম্মান-আস্থা আর সমতার ওপর ভর করেই আগামীতে এই সম্পর্ক এগোবে। এমনকি দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থানের বিষয়টি একদিকে রেখেও ব্যবসা-বাণিজ্য-কূটনীতি এগোবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শীর্ষ নেতাদের সফরে নতুন গতি পাবে এই সম্পর্ক, এমনটা বলছেন বিশ্লেষকরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাহাব এনাম খান বলেন, সংসদে এখন জামায়াত-এনসিপি আছে, সেই হিসেবে এই বিষয়টা বরাবরই আলোচনার মধ্যে থাকবে। এটাকে বাইপাস করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ বা অন্যান্য যেসব বিষয় আছে সেগুলোকে সুরাহা করা।
ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে ঘিরে দুই ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতা আটকে যাবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ, তারা অনেক বুঝেন। এটার ওপর তারা ফোকাস করে আটকে থাকবেন না।
ড. ইউনূসের সময় অনেক চেষ্টা করেও ঢাকা-দিল্লি ওয়ার্কিং রিলেশন স্থাপন করা যায়নি। নির্বাচিত সরকার আসলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে, সে সময় দিল্লির এমন বার্তা এখন অনেকটাই বাস্তবতা। তাই মূল্যায়ন, 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিতে সম্মান করেই এগোবে আগামীর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক।
ড. সাহাব এনাম খান বলেছেন, অতীতে যে রকম ভিসা বন্ধ করে দেওয়া বা এই ধরনের বিষয়গুলো দুই দেশের মধ্যে ঘটেছে, সেই ধরনের বিষয়গুলো যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সুতরাং বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের যে রকম একটা ঐকমত্য থাকা উচিত এবং ভারতের দিক থেকেও বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো দলের দিক না দেখে সাধারণ মানুষের ব্যাপারটা দেখা তাদের জন্য মঙ্গল।
ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, বাংলাদেশ যেই দেশের কাছ থেকে যেটা পাবে, সেইভাবে তারা এগোবে। তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যেমন থাকবে, চীনও থাকবে। ভারতও থাকবে। আর বারবার আমরা এটাও শুনেছি, তারেক রহমান কিংবা বিরোধীদের কাছ থেকে, তারা প্রতিবেশি হিসেবে ভারতকে হালকা করে দেখে না।
অভিযোগ, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে বন্ধুত্বের চেয়ে একট সময় পর্যন্ত ভারতের আধিপত্য বা দাদাগিরি বেশি সক্রিয় ছিল। গত দেড় বছরের বাস্তবতায় সেটি আর কাজ করবে না বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের।
ড. শ্রী রাধা দত্ত বলেন, আগে একটা পারসেপশন ছিল, ভারত অনেক কিছু পেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের কাছ থেকে, বাংলাদেশ কিছু পাচ্ছে না। সেই ব্যাপারটা এখন আর হবে না। এখন যেটা হবে, বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক যে পদক্ষেপগুলো নেবে, সেগুলোতে তারা দেখবে কী উপকৃত হচ্ছে। ভারতও তাদের সুযোগ-সুবিধা যেটাতে হচ্ছে সেটা করবে। এখন যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শুরু হবে সেটা অনেক স্থিতিশীল ও টেকসই হবে।
ড. সাহাব এনাম খান বলেন, ভবিষ্যতের দিকে যদি তাকাই, দুই দেশের সম্পর্কটা স্থিতিশীল থাকবে। বাংলাদেশের সরকার কিন্তু জনগণের সমর্থনের সরকার।সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে আসা মানে হলো সাধারণ মানুষ কিন্তু নিশ্চিতভাবে হিসাব-নিকাশ করবে, যে বাংলাদেশ কতটুকু পাচ্ছে কি পাচ্ছে না সেটা; সেটা শুধু ভারতের বেলায় হবে তা না।
প্রত্যাশা, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, তিস্তা সমস্যার সমাধান ও সীমান্তে মানুষ হত্যার মতো ঝুলে থাকা ইস্যু সমাধানে এবার আন্তরিক হবে দু'পক্ষই।