মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের রানীমুহুরী গ্রামের রূক মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থানকারী এই ব্যক্তিকে “কুখ্যাত দালাল” হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রূক মিয়া মুরাদনগর ও তার আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করতেন। তিনি সৌদি আরবে উচ্চ বেতনে ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে জনপ্রতি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে নিতেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর সৌদি আরবে নিয়ে গিয়ে তাদের কোনো কাজ বা বৈধ আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) কিছুই করে দিতেন না।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনানুযায়ী, অসহায় প্রবাসীদের সৌদিতে নেওয়ার পর একটি ঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। তাদের ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না এবং প্রায় এক মাস অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে রেখে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হতো। বর্তমানে তার একটি কক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন এবং অন্য একটি কক্ষে আরও ৫০ থেকে ৬০ জন বাংলাদেশি মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং মারধর করার জন্য দুইজন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, অনেকে তাদের শেষ সম্বল, জমিজমা বিক্রি করে উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি জমান। কিন্তু রূক মিয়ার মতো দালালদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে আজ তাদের জীবন ধ্বংসের পথে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর প্রবাসে তারা এখন অবর্ণনীয় কষ্টে দিনাতিপাত করছেন, যা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে ব্যথিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে, আর কোনো মায়ের সন্তান যেন এই দালালের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি জোর আকুতি জানিয়েছেন, যেন অবিলম্বে এই প্রতারক দালালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আরও বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।