• সোমবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন

ঢাবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চলছেই

মুহাম্মাদ শিমুল হুসাইন
মুহাম্মাদ শিমুল হুসাইন / ৭৮
সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন : ০১৯১১৬৫২৫৭০ (হোয়াটসঅ্যাপ)

গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত পেনশন (প্রত্যয় স্কিম)-সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন’ বাতিলের দাবিতে সর্বাত্মক পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেই যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ষষ্ঠ দিনের মতো লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও অফিসের কাজকর্মে যোগ না দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে সকাল ১০টা থেকেই তারা এখানে জড়ো হতে থাকেন। কর্মসূচিতে তাদের দুনিয়ার মজদুর এক হও এক হও বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই বৈষম্যের প্রজ্ঞাপন বাতিল করো করতে হবে সর্বজনীন পেনশন মানি না মানবো না  শেখ হাসিনার বাংলায় প্রত্যয়ের ঠাঁই নাই’ ইত্যাদি সংবলিত স্লোগান দিতে দেখা যায়।

মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্মচারী সমিতি কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

পরিষদের নেতাকর্মীরা বলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত বৈষম্যমূলক পেনশনসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর হলে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চরম বৈষম্যের শিকার এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একই বেতন স্কেলের আওতাধীন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ভিন্ন নীতি সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। এর ফলে মেধাবীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিতে আসতে আগ্রহী হবে না।

তারা বলেন এ প্রজ্ঞাপন সব শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে তা সবকিছুকে খুব খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে। এমন একটি বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন জারির ফলে সারা দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অসন্তুষ্টি সৃষ্টি হয়েছে তা কেবল আমাদের যৌক্তিক দাবি তথা প্রত্যয় স্কিম বাতিলের মধ্যে দিয়েই নিরসন সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অবিলম্বে আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রত্যয় স্কিম বাতিল করতে হবে। ঐক্য পরিষদের নেতারা আরও বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হয়। আমরা ঘরে ফিরে যাব না। অনেকেই বলছেন অনেক অফিসে জোর করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আটকে রাখা হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানাই। সংশ্লিষ্টদের বলতে চাই, আজ আমরা যেমন পেটের তাগিদে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। আপনাদেরও দায়িত্ব রয়েছে এই প্রত্যয় স্কিম বাদ দেওয়ার দাবিতে একাত্ম হন। আমাদের এ আন্দোলন পেটের তাগিদে আন্দোলন। এই প্রত্যয় স্কিম আপনাদেরও ছাড় দেবে না। সুতরাং আমাদের আন্দোলনে আসুন একাত্মতা পোষণ করুন। আমাদের সভা ও বিক্ষোভে অংশ নিন। প্রতিবাদ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুল মোতালেব, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক, কর্মচারী সমিতির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ সরোয়ার মোর্শেদ সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন কারিগরি কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আলম বাদল, চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহজাহান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মিয়াসহ অনেকেই বক্তব্য প্রদান করেন।


আরও সংবাদ

জরুরি হটলাইন