কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ফিরে এসেছে ইরান ও ইসরায়েল। দুই দেশই বুঝতে পেরেছিল, পূর্ণ মাত্রার একটি যুদ্ধের ভার সইবার ক্ষমতা নেই তাদের। তবে ইসরায়েলের একজন ইতিহাসবিদ ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধের উসকানি দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের পরমাণু প্রকল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে দেশটিতে হামলার বিকল্প নেই বলেও মনে করে ওই ইতিহাসবিদ।
জন্মলগ্ন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ‘সমস্যার’ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে ইসরায়েল। একের পর এক গুপ্ত হামলা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সর্বপরি ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড ধীরে ধীরে গিলে যাচ্ছে দেশটি।
ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ আরবরা বিরক্ত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুদ্ধ জড়াতে চায় না। কিন্তু নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে যুদ্ধের বিকল্প নেই, তা সহজেই বুঝতে পেরেছে ইসরায়েল। আর ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ইরান।
দেশটি যেমন সরাসরি ইসরায়েলের জন্য হুমকি, পাশাপাশি ইসরায়েলকে ঘিরে রাখা ইরানে প্রক্সিরাও তেল আবিবের কর্মকর্তাদের নিদ্রাহীন রেখেছে। এজন্য ইরান বিশেষ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচিকে ধ্বংস না করলে স্বস্তি পাবে না ইসরায়েল। দেশটির নেতৃত্বও বিষয়টি জানে। কিন্তু বারবার তেল আবিবকে সেই কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন ইতিহাসবিদ বেন্নি মরিস।
তিন বছর আগে হারিটেজ পত্রিকায় এক নিবন্ধে লিখেছিলেন, সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইসরায়েলকে ঠিক করতে হবে যে দেশটি প্রতিরোধমূলক আক্রমণে যাবে, না কি পারমাণবিক শক্তিধর ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করে তার ছায়ায় বেঁচে থাকবে। এটা নির্ধারণের মুহূর্তটাও খুব কাছে ঘনিয়ে এসেছে।
গেল সপ্তাহে আরেকটি নিবন্ধে ইরানের পরমাণু প্রকল্পে প্রচলিত পদ্ধতিতে আক্রমণ করতে না পারলে রীতিবিরুদ্ধ পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
তবে শুধু মরিসই নন, তার মতো আরও বহু ইসরায়েলি একই ধরনের মনোভাব পোষণ করেন। তারা মনে করেন, ইরানের পরমাণু প্রকল্পে হামলা চালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া উচিত। এতে না কি ইসরায়েলের নিরাপত্তা আজীবনের জন্য নিশ্চিত হবে। কেননা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে সামরিক শক্তিতে টেক্কা দেওয়ার সক্ষমতা একমাত্র ইরানেরই আছে।
১৯৮১ সালের ৭ জুন ইরাকের ওসিরাক পরমাণু প্রকল্প কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে, তা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইসরায়েল। তৎকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী মেনশাম বেগিনের নির্দেশে ৮টি যুদ্ধবিমান জর্ডান ও সৌদি আরবের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরাকের ওসিরাকের পারমাণবিক চুল্লিতে বোমা ফেলে।
অপারেশন অপেরা বা অপারেশন ব্যাবিলন নামে পরিচিত ওই অভিযান থেকেই প্রেরণা পাচ্ছে ইসরায়েল।
মজার বিষয় হচ্ছে, ইরানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইরাকে ওই হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়। তার প্রায় দেড় বছর পর ইরানে হামলা করে বসে ইরাক। তখন ইসরায়েল নিজেকে রক্ষার স্বার্থে ইরানকে সহায়তা করেছিল।
আর বিনিময়ে ইরাকের পরমাণু প্রকল্পের গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে ইরান। এখন প্রায় সাড়ে চার দশক পর ইরানে হামলার স্বপ্ন দেখছেন ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ।