বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অবস্থানের তুলনায় সামান্য হ্রাসপ্রাপ্ত।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ৩১০৮৬.৩৫ মিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল—আইএমএফের হালনাগাদ হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬৩৭৮.৪৭ মিলিয়ন ডলার, যা নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগের হিসাব (১৬ নভেম্বর) দেখায়—দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩১১০৯.৭৯ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুসারে নিট রিজার্ভ ছিল ২৬৪০৫.৫৫ মিলিয়ন ডলার।
চলতি সপ্তাহের হিসাব তুলনা করলে দেখা যায়—গ্রস রিজার্ভ কমেছে ২৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার এবং নিট রিজার্ভ কমেছে প্রায় ২৭.০৮ মিলিয়ন ডলার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চলমান চাহিদা, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ, ব্যাংকিং খাতের ডলারের ঘাটতি এবং নিয়মিত আমদানি দায় পরিশোধের কারণে একটি প্রত্যাশিত ঘটনা হলেও, রিজার্ভের ধারাবাহিক পতন অর্থনীতির জন্য সতর্কসংকেত।
আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রিজার্ভ পরিমাপ মানদণ্ড, যেখানে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়, বিদেশি মুদ্রায় নেওয়া ঋণের পরিশোধযোগ্য অংশ এবং সোয়াপ-চুক্তি বা ডেরিভেটিভ দায় বিয়োগ করে রিজার্ভ হিসাব করা হয়।
ফলে বিপিএম-৬ ভিত্তিক রিজার্ভ গ্রস রিজার্ভের তুলনায় কম থাকে এবং এটিই নিট রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা আমদানি বিল, ঋণ পরিশোধ এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নির্দেশ করে।
অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণে রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না, রেমিট্যান্স প্রবাহে ওঠানামা, জ্বালানি ও খাদ্যশস্যসহ বড় অংকের আমদানি বিল পরিশোধে চাপ, ডলার বাজারে অস্থিরতা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ–কিস্তি পরিশোধ—এসব মিলেই রিজার্ভে চাপ বাড়ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং রেমিট্যান্সে প্রণোদনার কারণে রিজার্ভ এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।
একজন সহকারী মুখপাত্র বলেন, রিজার্ভ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আমাদের অবস্থান নিরাপদ, তবে চাহিদা–সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখা ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্লেষকদের মতে, বছর শেষে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়লে এবং বৈদেশিক ঋণের নতুন কিস্তি ছাড় হলে রিজার্ভ বাড়তে পারে, কিন্তু ডলার বাজারের অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বা আমদানি বিল আরও বাড়লে রিজার্ভ আবারও কমে যেতে পারে। তাদের ভাষায়—রিজার্ভের পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে রপ্তানি–রেমিট্যান্স–ডলার চাহিদার ত্রিভুজের ওপর।