দুই বছরের নির্মম যুদ্ধে যেখানে গাজার ৭১ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, সেই ভয়াবহ বাস্তবতার মাঝেও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ইসরায়েল সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু’র আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহুর দফতরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং মার্চে অনুষ্ঠিতব্য স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানান। ইলন মাস্ক এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুই পক্ষ টেসলার সঙ্গে চলমান সহযোগিতা এবং স্বচালিত যানবাহন সম্পর্কিত আইন প্রণয়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। নেতানিয়াহু ও মাস্ক ইসরায়েলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে কথোপকথন করেছেন। নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা চাই ইসরায়েলকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে, যেমন আমরা সাইবার ও অন্যান্য ক্ষেত্রে করেছি।”
অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি সেনারা দুই বছরের এই যুদ্ধে ৭১,২০০-এর বেশি মানুষ হত্যা করেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছে আরও ১৭১,০০০-এর বেশি মানুষ। গাজার অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
অস্ত্রবিরতির চুক্তি কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল সীমান্ত পয়েন্ট বন্ধ রাখছে এবং মানবিক সাহায্য প্রবেশ বা পুনর্গঠন কার্যক্রম অনুমোদন করতে বাধা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। নভেম্বর ২০২৪-এ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত তাকে এবং প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োাভ গ্যালান্ট-কে গাজার হত্যাযজ্ঞের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও ইলন মাস্কের সফর প্রযুক্তি, নীতি ও নৈতিকতার সংযোগকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে এনেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আলোচনা করছেন, কীভাবে প্রযুক্তি ও মানবিক নৈতিকতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়।