এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও হাসিনা হোসেনের স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক এবং ভাসুর সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহর প্রভাবে কোনো পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
পাবনার ভাঙ্গুড়া জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক হাসিনা হোসেনের অবহেলায় কম্পিউটার ল্যাবের এমন বেহাল অবস্থা। এমনকি ওই শিক্ষক কম্পিউটার চালাতেই পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন অন্যান্য শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশিদ তদন্তে এলে এসব বিষয় ধরা পড়ে।
এ সময় ওই কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক এবং কম্পিউটার শিক্ষক হাসিনা হোসেনকে চরমভাবে তিরস্কার করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৯ সালে উপজেলা সদরে অবস্থিত নারী শিক্ষার অন্যতম এই বিদ্যালয়ে ২০০২ সালের জুলাই মাসে কম্পিউটার বিষয় অনুমোদন দেয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। সে সময় হাসিনা হোসেনসহ কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। হোসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভুয়া সনদ দিয়ে আবেদন করায় যাচাই-বাছাইয়ে তাকে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানেজিং কমিটি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও হাসিনা হোসেনের স্বামী আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েতুল হক এবং ভাসুর সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহর প্রভাবে কোনো পদক্ষেপ নিতে সাহস পায়নি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মঙ্গলবার রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক আব্দুর রশিদ তদন্তে আসেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের ল্যাবে ১১টি কম্পিউটারের মধ্যে ছয়টি সম্পূর্ণ নষ্ট এবং পাঁচটি কাজের অনুপযোগী নয় বলে দেখতে পান। এ সময় কম্পিউটার শিক্ষিকা হাসিনা হোসেনকে কম্পিউটারে কাজ করতে বললে তিনি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন না বলে জানান। এতে ওই কর্মকর্তা হাসিনা হোসেনকে তিরস্কার করেন।
বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক বিএম গোলজার হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়ে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হাসিনা হোসেন কম্পিউটার অন করা কিংবা ক্লাস নিতে পারেন না। উল্টো বিদ্যালয়ে এসে লাইব্রেরি কক্ষে গিয়ে ঘুমান। মাঝে মধ্যে অনেক দিন স্কুলে না এসে একদিনে সকল স্বাক্ষর করেন। প্রধান শিক্ষকের ম্যানেজ করে এমন অনৈতিক সুবিধা বিদ্যালয়ের আরো একাধিক শিক্ষক নেন। এতে পাঠদান চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বছর অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে টিসি নিয়ে চলে যাচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে হাসিনা হোসেন বলেন, ‘এখনকার কম্পিউটার অনেক আপডেট। তাই কাজ বুঝি না। যখন নিয়োগ পাই, তখন কম্পিউটারের কাজ বুঝতাম।’
এসব বিষয়ে কথা বলতে প্রধান শিক্ষক শওকত আলীকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পরেই কেটে দেন ফোন। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ এ খুঁদে বার্তা পাঠিয়ে ফোন করলেও রিসিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তে আসলে ডিডি স্যারের নিকট বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাবের বেহাল অবস্থা এবং কম্পিউটার শিক্ষিকা কম্পিউটারে কাজ করতে না পারার বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে ওই কম্পিউটার শিক্ষকের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’
ফটো ক্যাপশন : কম্পিউটার শিক্ষক হাসিনা হোসেন।
================================
গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা শফিকের জানাজা সম্পন্ন
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে তার নিজ গ্রাম ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার দর্শারপাড় এলাকায় তার জানাজা সম্পন্ন হয়।
এ সময় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৭টায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত শফিকুল ইসলাম শফিক ওই এলাকার আব্দুল সামাদের ছেলে। বর্তমানে পরিবারটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের টঙ্গী পূর্ব এলাকায় বসবাস করছিল। তিনি গাজীপুর জেলার গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা ছিলেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সে বছরের ৫ আগস্ট দুপুরে উত্তরা আজমপুরে ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে সরকার তাকে দেশের বাইরে চিকিৎসার জন্য পাঠাতে সকল কাগজপত্র ব্যবস্থা করলে তিনি দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
এদিকে, জানাজায় অংশ নেওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলীনূর খান বলেন, ‘দেশের জন্য তার এই ত্যাগ জাতি আজীবন স্বরণ রাখবে। আমরা তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।’
ময়মনসিংহ ১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মুক্তা বলেন, ‘মরহুম শফিকুল ইসলাম শফিক ছিলেন জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারির যোদ্ধা। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের জামাতে ইসলাম এর পক্ষ থেকে আমরা শহীদ পরিবারের পাশে সব সময় থাকব। আল্লাহ তাআলা তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন।’