কাজী রায়হান তানভীর সৌরভ
খুলনা প্রতিনিধি।
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনের শোক ঘোষণা ও বুধবার এক দিনের সরকারি ছুটি থাকলেও খুলনা ওয়াসায় ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে। বহুল আলোচিত খুলনা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ঝুমুর বালার নেতৃত্বে শোকের দিনেও অফিস কার্যক্রম চালানো এবং অফিসে খাবার এনে ‘ভূরিভোজের’ আয়োজন করার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শোক দিবস ও ছুটির দিনে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই ছুটির বাইরে থাকবেন। অথচ অভিযোগ রয়েছে, খুলনা ওয়াসায় পানি সরবরাহের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নয়, বরং কর্মকর্তা পর্যায়ে ফাইল কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
সরে জমিনে দেখা যায়, শোক দিবসে ডিএমডি ঝুমুর বালার অফিস কক্ষ খোলা ছিল এবং তিনি ভেতরে বসে একের পর এক ফাইলে স্বাক্ষর করছিলেন। এ সময় তার অফিস কক্ষে ভিডিও ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে ডিএমডি ঝুমুর বালার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পানি সরবরাহ জরুরি পরিষেবার মধ্যে পড়ে, তাই আমরা অফিস ওয়ার্ক করেছি।” তবে প্রশ্ন করা হলে—যেখানে প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা অন্যান্য কর্মকর্তা কেউ অফিসে উপস্থিত ছিলেন না, সেখানে তিনি কেন ফাইল ওয়ার্ক করছিলেন—এ বিষয়ে তিনি কোনো জবাব দেননি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগ থেকে ৩০ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বর বুধবার নির্বাহী আদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটিকালীন সময়ে সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস বন্ধ থাকবে। কেবল বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, পরিচ্ছন্নতা, টেলিযোগাযোগসহ জরুরি পরিষেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। প্রজ্ঞাপনে কোথাও কর্মকর্তা পর্যায়ের অফিস বা ফাইল কার্যক্রমের কথা উল্লেখ নেই।
এদিকে, শোক দিবসে খুলনা ওয়াসায় ডিএমডির অফিস করার খবরে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের জন্য ওয়াসা কার্যালয়ের গেটে উপস্থিত হলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাদের প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় ৭১ টিভিসহ কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, শোক দিবসের বিধি অনুযায়ী ওয়াসা ভবনের সব ফ্ল্যাগস্ট্যান্ডে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। প্রথমে পূর্ণাঙ্গ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হলেও পরে একটি ফ্ল্যাগস্ট্যান্ডে অর্ধনমিত করা হয়। অন্য ফ্ল্যাগস্ট্যান্ডগুলোতে কালো পতাকা দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। জানা গেছে, এমডি নিজেও শোক দিবসে অফিসে আসেননি।
খুলনা ওয়াসার সিবিএ নেতা আব্দুল গাফফার অভিযোগ করে বলেন, “যেদিন জাতি শোকে স্তব্ধ, সেদিন তারা অফিসে আনন্দ-উল্লাস করেছে। শোকের কালো পতাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা হয়নি। শোকের দিনকে তারা উৎসবের দিনে পরিণত করেছে।”
ঘটনাটি নিয়ে নগরীতে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, শোক দিবসের সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।