সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনে ২৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৯ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ১০ জনের বাতিল করেছে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা মিস আফরোজা আখতার এই ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে একজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাতিলকৃত প্রার্থী হলেন- বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এসএম মুজিবর রহমান ওরফে সরদার মুজিব। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু, তার সমর্থক হিসেবে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করে সঠিক না পাওয়ায় তা বাতিল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের মনোনয়নপত্রটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তার সাজাপ্রাপ্ত মামলার রায়ের কপি যাচাই-বাছাই শেষে তা আবারো পুনর্বহাল করেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা।
এই আসনে বর্তমানে মনোনয়নপত্র বৈধ পাঁচ প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. ইয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. ইজ্জত উল্লাহ, জাতীয় পার্টির জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রেজাউল করিম।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে আটজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাই বাছাই শেষে এর মধ্যে একটি মনোনয়ন বাতিল ও সাতটি বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটানিং কর্মকর্তা। বাতিলকৃত প্রার্থী হলেন- জাতীয় পার্টির রুহুল আমীন হাওলাদার গ্রুপের প্রার্থী শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন। তার দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক না হওয়ায় তা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এই আসনে মনোনয়পত্র বৈধ সাত প্রার্থী হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মো. আব্দুর রউফ, জাতীয় পার্টির মো. আশরাফুজ্জামান, আমার বাংলাদেশ পাটির (এবি পাটি) জিএম সালাউদ্দীন, বাংলাদেশ জাসদের মো. ইদ্রিস আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি রবিউল ইসলাম এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) শফিকুল ইসলাম সাহেদ।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে আটজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রির্টাানিং কর্মকর্তা। মনোনয়ন বাতিলকৃতরা হলেন- বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) ডা. শহিদুল আলম। এছাড়া স্বতন্ত্র আরও দুই জন হলেন- আসাফুদৌলা ও আসলাম আল মেহেদী। তাদের ১ শতাংশ ভোটার সঠিক না হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করেন জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওয়ায়েজ কুরুনীর মনোনয়ন সাময়িক স্থগিত করা হয়।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ মুহা. রবিউল বাসার, জাতীয় পার্টির মো. আলিফ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কাজী আলাউদ্দীন, বাংলাদেশ মাইনরটি জনতা পাটির (বিএমজেপি) রুবেল হোসেন।
এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনে সাতটি মনোনয়নপত্রের মধ্যে চারটি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং তিনজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিলকৃতরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদ এর এইচ এম গোলাম রেজা, ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। তার পুত্র জাতীয় পার্টি (রুহল আমিন হাওলাদার) গ্রুপের হুসাইন মোহাম্মদ মায়াজ, তার দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এছাড়াও, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মো. আব্দুল ওয়াহেদ, তার জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে গরমিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া, জাতীয় পার্টি (জেপি) আব্দুর রশীদের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এই আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ প্রার্থীরা হলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জিএম নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মনিরুজ্জামান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এস এম মোস্তফা আল মামুন।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা আফরোজা আখতার জানান, জেলার চারটি আসনে মোট ৩৫টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছিল। যাচাই বাছাই শেষে তার মধ্যে ১৯টি বৈধ ও ১০টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।