কুড়িগ্রামে কয়েকদিন ধরে শীত ও তীব্র ঠান্ডায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঘন কুয়াশা পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
রবিবার সকালে কথা হয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের দিনমজুর খলিলের (৫০) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শীতের কারণে সকালে কাজে যেতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবু কাজ না করলে চলবে কীভাবে।’
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় বসবাসকারী বাছন বেওয়া (৫৫) বলেন, ‘এই শীতে রাতে দুই-একটা খ্যাতা গায়ে দিয়ে ঘুমাই, তাও খুব ঠান্ডা লাগে। কেউ এখনো কম্বল দেয় নাই।’
একই এলাকার রহিম আলী বলেন, ‘ঠান্ডায় কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। কাজে গেলে হাত-পা জ্বালা-পোড়া করে, ঠিকমতো কাজ করা যায় না।’
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে তার ছেলে কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেক রোগী হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কিছু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় এ পর্যন্ত ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় নগদ ৪০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ রবিবার সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।