বছরের শুরু থেকেই উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমশীতল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলছে না। এই হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ, শিশু ও বয়স্করা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) গাইবান্ধায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সূর্যের দেখা না মিললেও বৃষ্টির মতো ঝরেছে শিশির। গত কয়েক দিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এর সঙ্গে হিমশীতল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে।
তীব্র শীতের কারণে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। এতে তাদের আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের কাটিহারা গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মোজম্মেল হক বলেন, দিন আর রাতের মধ্যে পার্থক্য নেই, সব সময়ই শীত লাগে। কাজকর্মও নেই। গরম কাপড় না থাকায় সকাল-বিকাল আগুন পোহাতে হয়, তবুও শীত কমে না।
জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকার অটোরিকশাচালক সেনা খন্দকার বলেন, শীতের মধ্যেও রিকশা নিয়ে বের হতে হয়। কাজ না করলে খাব কী? কিন্তু শীতের কারণে লোকজন কম, আয়ও কমে গেছে।
সদর উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক আজমল হক জানান, কুয়াশা বৃষ্টির মতো পড়ায় বীজতলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। কয়েক দিন এমন অবস্থা থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
একই এলাকার দিনমজুর আব্বাস আলী বলেন, কাজ নেই, পাঁচজনের সংসার চালানো নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। শীত যদি আরও বাড়ে, কয়েক দিন পর না খেয়ে থাকতে হতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ফুলছড়ি উপজেলার কাঁটাতার এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, নদীর পাশের বাড়িতে ঠান্ডা বাতাস বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। ছেঁড়া কাঁথা গায়ে দিয়েও শীত সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই এলাকার হাসিনা বেগম (৫৬) বলেন, দিন-রাত ঝরির মতো শীত পড়ছে। কুয়াশার কারণে বাইরে বের হওয়াই যায় না। ঠান্ডায় হাত-পা বরফ হয়ে আসে। শীতের কাপড় পেলে খুব উপকার হতো।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উত্তরের কয়েকটি জেলায় এবার শীতের তীব্রতা বেশি, গাইবান্ধা তার মধ্যে অন্যতম। রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় সমান থাকায় সারাক্ষণই শীত অনুভূত হচ্ছে। সামনে শীত আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।