হ্যালো হাদি, শরিফ ওসমান বিন হাদি... শাহাদতের পর জানলাম, তুমি-আমি নাকি একই ডিপার্টমেন্টের প্রোডাক্ট! এ আমার বুক ফোলানো গর্ব, হতে পারে সৌভাগ্যও। কিন্তু দুর্ভাগ্য, তোমাকে শহীদ দেখার পরও ছুঁয়ে দেখা হলো না তোমার সেই ‘সাধারণ কফিন’।
আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকা কতো জেন-জিকে তো দেখেছি- তাদের প্রতিটি পথচলা, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ; কিন্তু তোমার মনখোলা জান্নাতি হাসি, হিসেবি নম্রতা, স্ত্রীর প্রতি গায়রতি প্রেম, বন্ধুর প্রতি নিষ্ঠা; অথচ পকেটে তোমার- ফ্যাসিস্ট আর গোলামী উড়িয়ে দেওয়া শব্দবোমা, দাবানো ইতিহাস খুঁড়ে সত্যকে টেনে বের করা; দল-মতের ঊর্ধ্বে তোলা প্রেম আর দ্রোহের এতো পারফেক্ট রসায়ন, এতো বিস্ফোরক তুমি কই পেলে?
এ- তো তারুণ্য দীপ্ত ইনসানিয়াতি ইনসাফ, জীবন্ত কফিনে মোড়া।
তাই তো তোমার জানাজায় যেতে ভাড়া নিলো না আসাদ, মিন্টুসহ কতো শত রিকশাওয়ালা ভাই। জানাজা না পাওয়ায় ফুঁপিয়েছে ভিনজেলা থেকে ছুটে আসা মুক্তিপাগলরা। কানে বাজে সেই আর্তনাদ- ‘শাহবাগ যাবো, ভাড়া লাগবে না, যাবেন কেউ?’
তোমার শাহাদতের খবরে এভাবেই হৃদয় ছিঁড়ে গেছে লক্ষজনের, চোখের পানিতে ভাসিয়েছে বুক, গোচরে-অগোচরে।
শহীদরা মরে না। হাদি, তুমি কি পেয়েছো টের? দেখেছো, কতো মানুষ তোমাকে বিদায় জানাতে ছুটে এসেছে? কেন এসেছে? কারণ তুমি রক্তনালি ছুঁয়েছো প্রকৃত বাংলাদেশির; আলো ফেলেছ অন্ধকারে হাতড়ানো আজাদি পথের সুপ্ত দরজায়।
প্রিয় ওসমান হাদি- রাজনীতির গুরু হয়েই থেকো জেন-জিদের মাঝে, নতুবা- কবর ফুঁড়ে তোমাকে বের করে আনবে আলফারা, তোমার টর্চে দেখা লাল পথেই খুঁজবে ইনসাফের ইনকিলাব।