ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবৈধভাবে প্রবেশ করে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এলোপাতাড়ি গুলির পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে তারা। এ ঘটনায় অন্তত ৪১ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে গাজার রাফাহ সীমান্ত খুলতে এখনও টালবাহানা করছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদ্নে পর উপত্যকাটিতে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করছে দখলদার বাহিনী। রাফাহ সীমান্ত বন্ধ রাখায় ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছে কাতার।
ফিলিস্তিনজুড়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তান্ডব যেন নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিরজিত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ইসরাইলি সেনারা। এ সময় গুলি সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনে পায়ে গুলি করা হয়েছে। আবার কয়েকজন টিয়ারগ্যাস হামলায় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যায় ভুগছে। ১১ জনকে ইস্তিশারি আরব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ হামলার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ইসরাইলের জেলে বন্দি ফিলিস্তিনের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ করেন। সমাবেশের ফাঁকে গাজার ছয় বছর বয়সি শিশু হিন্দ রাজাবকে হত্যাকে কেন্দ্র করে নির্মিত চলচ্চিত প্রদর্শনের সময় এ হামলা করা হয়। ইসরাইলি সেনারা একে সন্ত্রাসবাদের সমর্থনের সমাবেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইসরাইলি দখলদারদের এ হামলা এই হামলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একজন কর্মকর্তা বলেন, দুর্ভাগ্যবশত বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা চলছেই। তবে এইবার সব সীমা অতিক্রম করে বাইরে স্পষ্ট নির্মমতার সঙ্গে ঘটেছে। তবে এ হামলার বিরুদ্ধে আমাদের ফিলিস্তিনের জনগণ যেখানে-ই থাকুক না কেন সংঘবদ্ধ আছে।
গাজায় রাফাহ সীমান্তের বন্ধ রাখায় ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছে কাতার। দোহা জানিয়েছে, মানবিক সহায়তা রাজনৈতিক চক্রান্তের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া উপত্যকাটিতে পরিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে গাজায় ‘বিশেষ অভিযান’ চালানোর অনুমোদন দিয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো। অনুমোদনের বিষয়টি চার ঘণ্টার নিরাপত্তা বৈঠকে আলোচনা হয়।
বৈঠকে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত পুনর্গঠন বা দ্বিতীয় ধাপের কোনও চুক্তি হবে না।