ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় মহৎ গুণ হলো তার দেশপ্রেম ও আপসহীন নেতৃত্ব যা আমরা রাজনীতিবিদ হিসেবে অনুসরণযোগ্য আদর্শ।’ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর তাঁতি বাজারে জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় কোতোয়ালি থানা বিএনপির আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন বলেন, দেশপ্রেমের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া আজকের খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিয়ে তিনি কখনও আপস করেননি বলেই তাকে আপসহীন নেত্রী বলা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ কার্যত স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে পরিচালিত হয়নি। এ সময়ে দেশকে ভারতের প্রভাবাধীন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। নামে বাংলাদেশ থাকলেও কার্যকরভাবে আমরা একটি দাস রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিলাম।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকেই জিয়া পরিবারের আপসহীন রাজনীতির সূচনা হয়েছে, যা এখনও চলমান। ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল। এটি ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি চক্রান্ত। এরপর একে একে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে আওয়ামী লীগের অধীনে একটি দাস রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হয়। সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আপস না করার কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবরণ করতে হয়েছে।
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, আপস না করার কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ শরীর নিয়ে কারাবরণ করতে হয়েছে। নেত্রী কারাগারে থাকার সময় অনেক নেতাকর্মী তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, মহান আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাতেই আজ পরিস্থিতি বদলেছে। যিনি শক্ত হাতে দেশ শাসন করবেন বলে দাবি করেছিলেন, তাকেই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের কথা উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, জায়গা থাকলে হয়তো আরও কোটি মানুষ উপস্থিত হতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জানাজার দিন সার্কভুক্ত সাতটি দেশসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
ইশরাক হোসেন বলেন, প্রয়োজনে জীবন দিতে হলেও দেশের স্বার্থে আমরা প্রস্তুত। আমার দেশ, আমার মাটি, আমার জনগণ, আমার পতাকা ও মানচিত্র নিয়ে কোনো আপস হবে না।
তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহতায়ালা যেন উনাকে জান্নাত নসিব করেন এবং বিএনপির প্রার্থীদের জন্য দোয়া করবেন, যেন তারা জনগণের কল্যাণে নেক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সফল হতে পারেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহবায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম, সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, কোতোয়ালি থানা বিএনপি'র সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, কোতোয়ালি থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন সোবহান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল হাওলাদারসহ ৩২, ৩৬, ৩৭ নং ওয়ার্ডের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিকদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।