জানুয়ারী ১০, ২০২৬, || ইমেইল : news@protidinkhabor.com || www.protidinkhabor.com
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাহারুল আলম বলেন, অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নির্বাচনের উপযোগী রাখা এটা আমাদের দায়িত্ব। এবং এখানে শুধু পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ একা না, এখানে পুলিশের সঙ্গে নির্বাচনের দিন তো বিপুল পরিমাণ, ৬ লক্ষের মতো আনসার সদস্য থাকবেন। আর এখন নির্বাচনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা বাহিনী আমাদের সঙ্গে আছেন। বর্ডার গার্ড আছেন, ইভেন কোস্ট গার্ড এবং নেভি উপকূলীয় অঞ্চলে তারাও এখন আইনশৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। ডেভিল হান্ট অপারেশন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, আপনারা জানেন, ১৩ ডিসেম্বর থেকে আমরা অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ শুরু করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের অনেক সমালোচনাও আছে। অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অনেক প্রার্থী তারা বলছেন যে, আপনার পুলিশ আমার কর্মীকে অ্যারেস্ট করছে, আমার তো নির্বাচনে কাজ করতে পারছি না। আমরা চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব অবজেক্টিভলি কাজ করতে। এখন যিনি পটেনশিয়ালি একজন রিস্কি, মানে থ্রেট, যিনি পটেনশিয়াল থ্রেট ফর দি ইলেকশন—আমরা চেষ্টা করছি তাকে আইনের আওতায় আনতে, তাকে গ্রেপ্তার করতে। অথবা যদি তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা থেকে থাকে যেই মামলায় তিনি আসলেই অপরাধী। যদি অপরাধী না হন আমরা আগেই বলেছি, গত এক বছর ধরেই বলছি, এমনিতেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে উদ্ভূত মামলায় অনেক নাম দেওয়া হয়েছে, শত শত নাম ফর নাথিং, আদৌ তারা জড়িত ছিল না। তাদেরকে আমরা রিলিফ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এখন সবচেয়ে বড় যেটা আপনাদের সমর্থন। তিনি আরও বলেন, এখন এই পুলিশকে, তাদের মনোবলকে আপনারা সমর্থন দিয়ে উঁচু রাখবেন এবং শক্ত রাখবেন। এখন কোনো অপরাধীকে যদি ধরা হয়, অ্যারেস্ট করা হয়, আর সমাজের লোকজন গিয়ে যদি থানা ঘেরাও করে তাহলে কি আমি ধরে রাখতে পারবো? আপনি যদি মনে করেন আমি অমুকের হত্যার বিচার চাই, রাস্তা বন্ধ করে বসে থাকলেন যে এটা বিচার করতে হবে, না হলে এই শহরের সবাই আজকে চলাচল করতে পারবে না। এইরকম ডিসঅর্ডার যদি রাস্তায় হয়, তাহলে আমি কি ধরে রাখতে পারবো আইনশৃঙ্খলা? আমি পুলিশের প্রাইমেসি প্রতিষ্ঠার জন্য, ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রাখার জন্য, নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার জন্য যে পরিবেশ তৈরি করতে হবে তার জন্য আপনি তো আমাকে অথরিটি দেবেন। এখন অ্যারেস্ট করলে আপনি ঘেরাও দিয়ে বসে থাকবেন, থানা থেকে যে তাকে ছাড়তে হবে, তাহলে তো আই ডু নট হ্যাভ এনি অথরিটি। আমি আপনাদের কাছ থেকে, সমাজের কাছ থেকে এটা চাই। যদি অন্যায় করি ধরেন আমাকে। কিন্তু ন্যায় কাজটা আমাকে করতে দেন। এই অনুরোধ আপনাদের কাছে। এর আগে, পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড অডিটোরিয়ামে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভায় আইজিপি বাহারুল আলম বক্তব্য রাখেন
চট্টগ্রাম: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে তখন অনেকেই হাত মিলিয়েছিলেন। আজ যারা ধর্মের রাজনীতি করেন, তারাও তখন স্বৈরাচারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কখনো হাত মেলাননি, আপস করেননি। এক-এগারোর সময়েও অনেকে আপস করলেও তিনি করেননি।
স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে নানা লোভ দেখিয়েছে, আমাদেরও লোভ দেখানো হয়েছে, কিন্তু তিনি আপস করেননি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরের দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে সিডিএ বালুর মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ।
আমীর খসরু বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে কাটিয়েছেন। জীবনের মাত্র ২৫ শতাংশ সময় তিনি ক্ষমতায় ছিলেন, আর বাকি ৭৫ শতাংশ সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।
নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন—তবু কখনো আপস করেননি। এই গণতন্ত্র আমাদের ধরে রাখতে হবে। মানুষের অধিকার, নারীদের অধিকার রক্ষা করতে হবে। তিনি নারীদের জন্য খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি যখন কারাগারে ছিলাম, তখন আমার কাছেও লোক পাঠিয়ে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি আপস করিনি। কারণ আমরা দেশনেত্রীর কাছ থেকেই আপসহীনতার শিক্ষা পেয়েছি। তিনি আমাদের আপসহীন হতে শিখিয়েছেন।
দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কামাল সরদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব মো. মোস্তফার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, সদস্য অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া, বিএনপি নেতা মো. সেকান্দর, হাজী হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মঞ্জুর মিয়াসহ অন্যান্য নেতারা।
স্বত্ব © ২০২৬ প্রতিদিন খবর || সম্পাদক ও প্রকাশক : আলী আজগর হাওলাদার