টি-২০ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর নতুন আরেকটি ইনিংস শেষ করলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। এক বছর আগে বাগদান সম্পন্ন হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নববধূকে ঘরে তুললেন এই ক্রিকেটার।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকেলে পৈতৃক ভিটা নীলফামারী সদরে টুপামারীর নিজপাড়া গ্রামে বরবেশে প্রস্তুত রিশাদ হোসেন। আয়োজনে বাড়ির সামনে একটি গেট থাকলেও তেমন আড়ম্বরতা ছিল না, একেবারেই সাদামাটা। উপস্থিত ছিল পরিবারের সদস্য ও নিকট স্বজনরা।
তারকার বিয়ে। বিকেল সাড়ে ৩টায় নিজের গাড়িতে বরবেশে চেপে বসলেন রিশাদ। গন্তব্য পাশের ইউনিয়ন ইটাখোলার পশ্চিমপাড়ায় কনের বাড়িতে। গাড়িবহরে সামনে চার পাঁচটি মোটরসাকেল আর তার গাড়ির পেছনে ১১টি মাইক্রোবাস। ধীরগতিতে বরযাত্রীর গাড়ি বহর নিয়ে চার কিলোমিটারের পথ অতিক্রমে ৪০ মিনিট পর হাজির হলেন কনে বাড়িতে রিশাদ হোসেন। আত্মীয়স্বজনদের বসানো হলে খাওয়ার প্যান্ডেলে। খাবার মেনুতে ছিল গরুর মাংস, খাসির মাংস, মুরিগর রোস্ট, রই মাছের ফ্রাই, ডাল, পোলা, সাদা ভাত, জদ্দা পোলাও এবং দই।বরযাত্রীর খাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে রিশাদ ১১টি মাইক্রোবাসের বহরসহ বউ নিয়ে প্রবেশ করেন জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে।রিশাদের পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই নীলফামারী সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া গ্রামে মামা ইলিয়াস হোসেন প্রামানিক জুয়েলের মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহার সঙ্গে বাগদাদ সম্পন্ন হয় রিশাদের। দুই পরিবারের আলোচনার মধ্য দিয়ে বাগদাদ সম্পন্ন হয় রিশাদ-মুনতাহার। বিয়ের কাবিননামায় ১০১ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বাগদান সম্পন্ন করেন রিশাদ হোসেন। বিয়ের কাবিননামায় কনে পক্ষের আত্মীয় সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আব্দুল হাকিম শাহ স্বাক্ষর করে উকিল শ্বশুড় হয়েছেন রিশাদের। কাবিন নামায় কনে পক্ষের সাক্ষী হয়েছেন নীলফামারী জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান দেওয়ান বিপ্লব আহমেদ এবং ব্যবসায়ী শাহানুর আলম শানু। তবে রিশাদের পক্ষে ওই বিয়ে থেকে কারা সাক্ষী হয়েছেন তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান রিশাদ ও তার পরিবার।কনে সিদরাতুল মুনতাহা ২০২৩ সালের টুপামারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে বিজ্ঞান শাখা এসএসসি পাস করে বর্তমানে রাজধানী ঢাকার একটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত রয়েছেন। বাগদানের পর থেকে নিজ ক্যারিয়ার গড়ার ব্যস্ততায় খানিকটা সময় কেটে যায় রিশাদের। অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অনেকটাই সাদাসিদেভাবে সারলেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
বৃহস্পতিবার বিয়ের এ আনুষ্ঠানিকতায় অযাচিতভাবে উপস্থিত হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়িার সাংবাদিকরা। তাদের সামনে বিয়ের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ছিল অনেকটাই লুকোচুরি। সকাল থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা বিয়ের ভিডিও এবং ছবি ধারণের জন্য রিশাদের বাড়ি এবং কনের বাড়ির সামনে হাজির হলে তাতে দেওয়া হয় বাধা। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে এক প্রকার বিরক্ত হন রিশাদ হোসেন। তুলতে দেননি কনের ছবি। গাড়িবহর নিয়ে কনে বাড়িতে হাজির হলে গণমাধ্যম কর্মীরা ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে চাইলে নিজ গাড়ি থেকে বের হতে অনীহা প্রকাশ করে রিশাদ হোসেন। এ সময় কনে পক্ষের লোকজনের অনুরোধে গণমাধ্যমের কর্মীরা সরে দাঁড়ালে গাড়ি থেকে নেমে সোজা কনের বাড়ির একটি ঘরে গিয়ে বসেন রিশাদ হোসেন। কনের আত্মীয়স্বজনরা তার সঙ্গে ছবি তুলতে চাইলেও সেখানেও অস্কীকৃতি জানায় রিশাদ। এরপর গণমাধ্যম কর্মীদের অনেক অনুরোধে নিজের ছবি তুলতে দিলেও কনের ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেন রিশাদ।
বিয়েতে কনে পক্ষের সাক্ষী নীলফামারী জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল মেয়র দেওয়ান বিপ্লব আহমেদ জানান, পারিবারিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই কনে সিদরাতুল মুনতাহার সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয় রিশাদ হোসেনের। বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হয়েছিল ১০১ টাকা। বিয়েতে নিকাহ রেজিস্টার ছিলেন মো. আবু হোসেন বাবু। রিশাদের বিয়েতে কনের উকিল বাবা হিসেবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন প্রভাষক আব্দুল হাকিম শাহ। বিয়েতে কনে হয়ে স্বাক্ষীয় হিসেবে কাবিননামায় স্বাক্ষর করেন ব্যবসায়ী শাহানুর আলম শানু এবং আমি দেওয়ান বিপ্লব আহমেদ।
রিশাদের বাগদান নিশ্চিত করে নিকাহ রেজিস্ট্রার ছিলেন মো. আবু হোসেন বাবু বলেন, ‘আমার যত দূর মনে রয়েছে ওই বিয়েতে মোহরানা ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ১০১ টাকা।’ ক্রিকেট জগতের এই নতুন তারকার নতুন জীবনের জন্য দোয়া চেয়েছেন রিশাদের বাবা নুর আলম এবং শ্বশুর ইলিয়াস হোসেন প্রামাণিক জুয়েল।
রিশাদের বাবা নুর আলম বলেন,‘ দেশ বাসীর দোয়ায় ছিল বলে আমার ছেলে রিশাদ জাতীয় ক্রিকেট দলে চান্স পেয়ে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলে এসেছে। আজ তার বিয়ে। নতুন জীবন শুরু করল। আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূকে ঘরে তুললো। দেশবাসীর কাছে আবেদন রিশাদ ও তার স্ত্রীর জন্য সকলে দোয়া করবেন।’
রিশাদের শ্বশুর ইলিয়াস হোসেনর প্রামানিক জুয়েল বলেন, ‘রিশাদ সম্পর্কে আমার ভাগনে হয়। তার মা ও আমি সম্পর্কে ভাইবোন। আমরা পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আমার মেয়ে সিদরাতুল মুনতাহার সঙ্গে রিশাদের বিয়ে দেই ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই। আগে ভাগ্নে হলেও এখন সে আমার জামাই। সে জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন তারকা খেলোয়াড়। রিশাদ নীলফামারীসহ সারা দেশের গর্ব। তার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে দিতে পেরে আমিও গর্বিত। রিশাদ-মুনতাহার দাম্পত্যজীবন যাতে সুখের ও শান্তিময় হয় এ জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।
যদিও বিয়ের খবরটি নিজের ভেরিফায়েড পেজে দিয়েছেন রিশাদ। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, ‘আমি গাঁটছড়া বেঁধেছি এই আনন্দের সংবাদটি ভাগ করে নিতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত! আমাদের ভবিষ্যৎ ভালোবাসা, আনন্দ এবং অফুরন্ত আশীর্বাদে পূর্ণ হোক।
আজকের এই আয়োজনকে ফরমালিটিজ বলছেন এই তারকা। আপাতত খেলা নয়, জীবনটাকে উপভোগ করতে চান তিনি।
রিশাদ হোসেন বলেন,‘আমার এটা নতুন বিয়ে না, জাস্ট এটা অফিসিয়ালি অ্যালাউন্স করা হলো। আমার বিয়ে এক বছর আগে হয়েছে, ফ্যামিলিগতভাবেই,আপনারা (সাংবাদিক) যে টা দেখছেন এটা জাস্ট ফরমালিটিজ মেইনটেইন।’
টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা শেষে সামনে কানাডা লিগ খেলতে যাবেন এরই মধ্যে নতুন বউ ঘরে তুললেন তাতে খেলার ওপরে কি প্রভাব পড়ে না? এমন প্রশ্নরে জবাবে রিশাদ বলেন,‘ আপাতত খেলা নিয়ে চিন্তা করছি না, আজকের বিষয়টি আগে উপভোগ করতে দেন। দেশবাসীর কাছে প্রত্যাশা করছি আমার দাম্পত্য জীবন যাতে সুখী হয় সে জন্য সকলেই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’
বৌভাত হবে কি না, হলে জাতীয় দলের কে কে আসবে এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন,‘ এখন পর্যন্ত কোন কিছুই চিন্তা করিনি, আগে বাড়িতে যায়, এই হ্যারেজ মেইন্ট থেকে ঝেড়ে তারপর দেখা যাবে কি করব।’