ঋণ না পেয়ে ক্ষোভ থেকে ব্যাংক লুটের পরিকল্পনা করেছিলেন পেশায় বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি কাউসার আহমেদ (২৫)। রাতে সুযোগ বুঝে ব্যাংকের প্রধান ফটকের তালা কেটে ভেতরে ঢুকে ভল্ট ভাঙার চেষ্টাও করেন তিনি। তবে নিরাপত্তাকর্মীর সাহসিকতা ও স্থানীয়দের তৎপরতায় ব্যর্থ হয়েছে সেই চেষ্টা। শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরা পড়েছেন কাউসার। আজ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গত বুধবার দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখায় চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটে। আটক কাউসার আহমেদ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া গ্রামের কৃষক রতন মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজের বিয়ের জন্য দুই লাখ টাকা ঋণের প্রয়োজন ছিল কাউসারের। সে উদ্দেশ্যে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের সোহাগী বাজার শাখায় যান। কিন্তু প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী ঋণ না পাওয়ায় তার মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেখান থেকেই ব্যাংকের ভল্ট দেখে সম্পূর্ণ টাকা লুটে নেওয়ার পরিকল্পনা আঁকেন তিনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার গভীর রাতে কাউসার ব্যাংকের মূল ফটকের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ব্যাংকের নৈশপ্রহরী মাজহারুল ইসলাম সাগর টের পেয়ে ঘুম থেকে উঠতেই কাউসার তাকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এরপর তিনি ব্যাংকের ভল্ট ভাঙার চেষ্টা চালান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নিরাপত্তাকর্মী মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে হঠাৎ ভেতরে আওয়াজ পেয়ে কাছে গেলে কাউসার আমার বুকে ছুরি ধরে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তবে বাঁধন কিছুটা ঢিলে থাকায় আমি কৌশলে তা খুলে দ্রুত নিচে নেমে যাই এবং চিৎকার শুরু করি। আমার ডাক-চিৎকারে আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ভেতরে ঢুকে কাউসারকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।’
পরে স্থানীয়রা কাউসারকে পুলিশে সোপর্দ করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কাউসার ব্যাংক লুটের চেষ্টার কথা স্বীকার করেছেন।
সোহাগী বাজার শাখার ব্যবস্থাপক নাজমুল হক জানান, উক্ত যুবক আগে ঋণ নিতে ব্যাংকে এসেছিলেন। রাতের এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সেটিকে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। ঘটনার পর থেকে ব্যাংকের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, বিয়ে করার জন্য কাউসারের টাকার প্রয়োজন ছিল। ঋণ না পেয়ে তিনি ব্যাংক লুটের পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় থানায় মামলার পর আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।