জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলছেন, সরকার কোনোভাবেই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। এরই মধ্যে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ, নির্বাচন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে এক ধরনের ষড়যন্ত্র তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি নতুন নাটক শুরু করেছে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর)বিকালে রাজধানীর মিরপুরে-১০ নম্বর গোল চত্বরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিল সফল করতে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এই সংক্ষিপ্ত পথসভা, ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করে৷
আখতার বলেন,তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য বিএনপি অতীতে আন্দোলন করেছে। অথচ এখন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে তারা নানা টালবাহানা করছে। নিজেদের পছন্দের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য অতীতে বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এক এগারোর মতো ঘটনা ঘটেছে।
সেই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্যই জাতীয় নাগরিক পার্টি নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের একটি কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছিল।ঐকমত্য কমিশনে আমরা আলোচনা করেছি। র্যাংকিং টাইপ ভোটিং সিস্টেমের' মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব গণভোটে পাসও হয়েছে। কিন্তু এখন বিএনপি সরকার নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি করেছে। তারা বলছে, স্পিকারকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হবে। তাহলে সেই সরকার নির্দলীয় হবে কীভাবে?
স্পিকারের অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকে। তিনি হয়তো দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ও পদবি ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু একজন স্পিকার অবশ্যই কোনও না কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করতে হবে, এই দুরভিসন্ধি আমরা বুঝতে পারছি না।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন তিনি সংবিধান রক্ষার নামে তৎপরতা চালাচ্ছেন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ফ্যাসিবাদী সংবিধান রক্ষা করতেও ব্যর্থ হবেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মিরপুরের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের পর মিরপুর আর আগের মিরপুর নেই। এলাকাটি বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও মাফিয়া গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। এসব গোষ্ঠীর তৎপরতায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। একটি ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও এর উদাহরণ। ওই ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে বলা হলেও হামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতার করা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে মিরপুরের মাফিয়াদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একসময় চাঁদাবাজি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা মার্কেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা গ্রামগঞ্জের অলিগলি, পাড়া মহল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি মহিষের ঘাস খাওয়ানো ও পুকুরে মাছের খাবার দেওয়ার মতো বিষয়েও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে।
এনসিপির যুগ্ম যুগ্ম আহ্বায়ক ও সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলেন, বর্তমান সরকার মিরপুরকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও জড়িত ব্যক্তিদের আড়াল করার অভিযোগও করেন তিনি।