২০০৬ সালের অক্টোবর মাসের কথা উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘২৮ তারিখে এখানে আপনাদের শ্রমিক দলের মিটিং ছিল, ২৭ তারিখ রাত্রিবেলায় কেন সরায় নিয়ে গেলেন? বোঝা যায় ভেতরে-ভেতরে একটা লাইন ছিল। আজও জাতির কাছে সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়নি।
আজ বুধবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ফটকে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লগি বইঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে’ এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করা হয়।
জামায়াত নেতার এ প্রশ্ন, ‘সেদিন কেন চার দলের মিটিং এক জায়গায় হতে পারল না। কেন টেলিফোন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাওয়া গেল না। কেন হাসিনার তুলে নেওয়া মামলাকে আজও পুনরুজ্জীবিত করা হলো না।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এই সরকারকে বলব, আপনারা যদি সত্যিকারে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হয়ে থাকেন, তাহলে কাগজপত্র অনুসন্ধান করে পল্টন হত্যাকাণ্ডের মামলাকে পুনরুজ্জীবিত করুন। ট্রাইব্যুনালে হাসিনার যে বিচার চলছে, সেই মামলায় মেনন, ইনু, হাসিনাসহ জাসদ, বাসদ, বাম ও বাপ্পাদিত্য বসুরা—যারা মৃত লাশের ওপরে দাঁড়িয়ে নাচানাচি করেছিল, ওদেরকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির মুখোমুখি করুন। তাহলে বুঝব যে আপনারা আওয়ামী লীগকে সত্যি ফ্যাসিস্ট বলেন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, পল্টনের ঘটনায় তাঁরা মামলা করেছিলেন, কিন্তু আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে সেই মামলা প্রত্যাহার করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরে আদালতে সেই মামলার ফলোআপ করার জন্য নথি জোগাড় করতে গিয়ে দেখি, চার্জশিট দেওয়ার পরে মামলা তো প্রত্যাহার করেছেই, সরকারের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মামলার সমস্ত নথিকে গায়েব করে দিয়েছে।’
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘সেদিন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন ধরে নাই, পুলিশ-আর্মি কেউ সেদিন এখানে আসে নাই। অথচ আপনারা নয়াপল্টনে আরামের সঙ্গে মিটিং করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, তলে তলে কী একটা খাতির ছিল।’
সমাবেশে দলের নির্বাহী পরিষদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েমসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াত নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি পল্টন মোড়-জাতীয় প্রেসক্লাব হয়ে মৎস্য ভবন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।