
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সফলতম বোলার হিসেবে রেকর্ড গড়া রিশাদ হোসেন এবার বিশ্বমঞ্চে ব্রাত্য হয়ে পড়ায় নিজের গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকলেও জাতীয় দলের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার কারণে এবারের আসরে তাকে কেবল দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিশাদ তার এই মনকষ্টের কথা জানান। যেখানে ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বসেরাদের সঙ্গে লড়াই করার কথা ছিল, সেখানে ঘরের মাঠে ঘরোয়া টুর্নামেন্ট খেলে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে এই তরুণ তুর্কিকে।
সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আজ হয়তো কলকাতায় বাংলাদেশ দলের হয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত থাকতেন রিশাদ। কিন্তু ভারতের সঙ্গে নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতা এবং শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা ইস্যুতে দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে রিশাদের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয় তিনি হতাশ কি না, তখন তিনি শুকনো হাসি হেসে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনাদের হতাশা কাজ করছে না?’ উত্তর ইতিবাচক আসার পর তিনি বিষণ্ণ মনে যোগ করেন, ‘আমারও একই অবস্থা।’ তার এই ছোট উত্তরের মাঝেই ফুটে উঠেছে একজন ফর্মে থাকা ক্রিকেটারের বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে না পারার চরম আক্ষেপ।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যে অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল, সেই উত্তাল সময়ে রিশাদ হোসেন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। তিনি বিগ ব্যাশে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট শিকার করে নজর কেড়েছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের।
সেখানে ওভারপ্রতি মাত্র ৭.৮২ রান দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার। রিশাদ জানান যে, দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক অস্থিরতা তাকে সেখানে স্পর্শ করেনি কারণ তিনি কেবল নিজের পারফরম্যান্স ও প্রতিশ্রুতির দিকেই মনোযোগী ছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল বিশ্বমঞ্চে সেই ফর্ম ধরে রাখা, যা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
দেশের দুই স্বনামধন্য কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও হান্নান সরকারও আগে জানিয়েছিলেন যে, বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে দলের প্রায় সব ক্রিকেটারই প্রচণ্ড মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। লিটন কুমার দাস ও রিশাদ হোসেনরা ঘরোয়া লিগে ভালো খেললেও বিশ্বকাপের শূন্যতা পূরণের মতো কোনো রসদ তাদের কাছে নেই।
বিশেষ করে গত বিশ্বকাপে বোলিং দিয়ে বিশ্বজুড়ে যে পরিচিতি রিশাদ পেয়েছিলেন, এবারের আসরটি হতে পারত তার ক্যারিয়ারের নতুন এক মাইলফলক। এখন কেবল সতীর্থদের সঙ্গে গ্যালারিতে বসে বা টেলিভিশনের পর্দায় অন্য দেশগুলোর লড়াই দেখা ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই।
মন্তব্য করুন