
মেরুর চর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ২ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুর চর ইউনিয়নে এক ধর্মীয় ভাবগম্ভীর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি মেরুর চর ইউনিয়নের রবিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়।
রমজানের পবিত্রতা ও তাৎপর্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মী, সমর্থক, আলেম-ওলামা, সুধীজন ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। শুরু থেকেই ধর্মীয় আবহে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেরুর চর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি পবিত্র রমজানের শিক্ষা ও তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, নৈতিক উন্নয়ন এবং সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাস। তিনি সকলকে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের আহ্বান জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নাজমুল হক সাঈদী, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এবং জামালপুর জেলার সাবেক আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি পবিত্র মাহে রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরে বলেন, রমজান আত্মসংযম, তাকওয়া অর্জন ও মানবতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইফতার পূর্বে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় একজন বিশিষ্ট আলেম।
ইফতারের সময় উপস্থিত সকলেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এমন ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সর্বশেষে আয়োজকবৃন্দ উপস্থিত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আগামীতেও দ্বীনি ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন