
অনিয়ম-জাল সনদে বকশীগঞ্জের ৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
সামরুল হক,বিশেষ প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা-তে অনিয়ম ও জাল সনদ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এর অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে জামালপুর জেলা-র বিভিন্ন উপজেলার মোট ৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে পরিচালিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা অধিদপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জের যে ৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী বকশীগঞ্জ উপজেলার নিম্নোক্ত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনিয়মের অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—
১. খাদেমুন মইন মহিলা ডিগ্রি কলেজ (তদন্ত প্রতিবেদনভুক্ত)
২. খাদিমুল মইন মহিলা ডিগ্রি কলেজ
৩. ঘাসিরপাড়া রোকেয়া বেগম উচ্চ বিদ্যালয়
৪. বকশীগঞ্জ খয়ের উদ্দিন (সিনিয়র) ফাজিল মাদ্রাসা
৫. মালিরচর মৌলভীপাড়া দাখিল মাদ্রাসা
৬. মেরুরচর হাসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়
৭. যাদুরচর দাখিল মাদ্রাসা
৮. লাউচাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়
৯. হাসিনা গাজী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
তদন্তে যা উঠে এসেছে:
অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য সনদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ প্রক্রিয়া, অর্থ আত্মসাৎ, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত অনিয়মসহ নানা ধরনের আর্থিক অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অনিয়মের কারণে প্রায় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেহাত হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম জানান, তদন্তে প্রাপ্ত অনিয়মের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।”
শিক্ষা অঙ্গনে চাঞ্চল্য:
এ ঘটনায় জামালপুর জেলাজুড়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ না হলে শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরে আসবে।
সার্বিক চিত্র:
সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জামালপুর জেলার ৩৭টি প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্তি বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখন দেখার বিষয়—প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কতটা সফল হয়।
মন্তব্য করুন