
আশুলিয়ায় এমপি ডা. সালাউদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে সাঁড়াশি অভিযান: চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজন আটক
সামরুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি:
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ঢাকা–১৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজেই পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া বেগম নামে এক ভুক্তভোগীর লিখিত ও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযোগে তিনি জানান, আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার দূর্গাপুর, আলতাফ নগরসহ আশপাশের এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল, নির্মাণাধীন বাড়ি ও জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। পরে তিনি আশুলিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার সকালে কাঠগড়া এলাকার দূর্গাপুর, আলতাফ নগরসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের সময় আলতাফ নগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে রুবেল মন্ডল ও বাবুল হোসেন নামের দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
এদিকে অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় অবস্থান করা কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে এলাকায় চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কিছু প্রভাবশালী চক্র ভূমি দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা–১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন,
“চাঁদাবাজদের কোনো দল বা পরিচয় নেই। সে যে দলেরই হোক না কেন, যদি চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব বা হয়রানি সহ্য করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমি নির্বাচনের আগেই এলাকার জনগণকে কথা দিয়েছি—আশুলিয়াকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত একটি নিরাপদ এলাকায় পরিণত করবো। সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সংসদ সদস্য আরও জানান, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বর সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে দিচ্ছেন। যাতে করে যে কেউ সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের সমস্যা বা অভিযোগ জানাতে পারে। তিনি নিয়মিত জনগণের ফোন কল রিসিভ করে তাদের কথা শুনছেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, আটক দুই চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে আশুলিয়ায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।
মন্তব্য করুন