অনলাইন ডেস্ক
৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কখন গিলে নেয় ভিটেমাটি, ভাঙনের শঙ্কায় তিস্তাপাড়ের মানুষ

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কয়েকদিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হয়ে নীলফামারীর ডিমলার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়। এখন পানি নেমে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে, কিন্তু স্বস্তির জায়গা নিয়েছে ভাঙনের ভয়। নদীর পানি কমতে শুরু করায় তীরের মাটি সরে গিয়ে অনেক স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে।

ফলে তিস্তাপাড়ের মানুষ এখন ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন- কখন নদী গিলে নেয় তাদের ভিটেমাটি।

সোমবার (০৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার পর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটারের ১০ সেন্টিমিটার নিচে।

এর আগে রোববার (০৫ অক্টোবর) রাত ১১টায় পানিপ্রবাহ ছিল ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

পানি নামার পর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি, ঝুনাগাছ চাপানি ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলে পানি কিছুটা কমেছে। তবে নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে বিভিন্ন স্থানে। অনেকের আবাদি জমির পাশে নদীর পাড় ধসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বসতভিটে হুমকির মুখে পড়েছে।

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের জুলহাস আলী বলেন, ‘রোববার রাতে হঠাৎ করে তিস্তার পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছিল। সোমবার পানি কমেছে, কিন্তু এখন নদী পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভয়ে আছি, কখন নদী আমাদের ঘরটাও নিয়ে যায়।’

আরও পড়ুন  সাভার উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় এমপির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আরেক বাসিন্দা হজরত আলী বলেন, ‘তিস্তার পানি বাড়লে যেমন ভয়, কমলেও ভয়। গতরাতে পানি ঘরে ঢুকেছিল, আজ নামছে- কিন্তু পাড়ে ফাটল ধরেছে। এখন দিন-রাত ভাঙনের ভয়।’

এদিকে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক নূরুল ইসলাম জানান, রোববার সন্ধ্যা থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। রাত ১১টায় বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। সোমবার দুপুরে তা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে নেমে এসেছে।

ডালিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘তিস্তার পানি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাড়ার সম্ভাবনা নেই, বরং নিম্নাঞ্চলের পানি দ্রুত নামছে। তবে পানি নামার সময়ই সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দেয়। তাই আমরা ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো নজরদারিতে রেখেছি।’

তিনি জানান, তিস্তা ব্যারেজের আশপাশের পাড় রক্ষায় বালুর বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, যাতে ভাঙনের ঝুঁকি কমানো যায়।

অন্যদিকে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, ‘তিস্তা তীরবর্তী এলাকায় এখন রোপা আমন, চিনাবাদাম ও শাকসবজির আবাদ চলছে। পানি যদি আরও তিন থেকে চার দিন স্থায়ী থাকত, তাহলে ব্যাপক ক্ষতি হতো। তবে পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতির আশঙ্কা কমবে।’

তিনি জানান, যেসব জমিতে পানি দাঁড়িয়ে ছিল, সেসব এলাকায় ফসলের রোগবালাই ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকার দায়িত্ব আমাকে দিন : নবীন

“প্রশিক্ষণ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য, প্রার্থীর যোগ্যতার প্রমানের জন্য নয়” — ক্ষোভ ১৪,৩৮৪ জন শিক্ষকের।

গাবতলীতে ২ লাখ টাকার নিচের গরু বিক্রি বেশি, ‘দাম কম’ বলছেন বিক্রেতারা

নাটোরে মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

কোরবানি হাটে মহিষের গুঁতোয় নিহত ২ জন

ইরানে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের খসড়া চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে

রংপুরে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মৃত্যু

কামরাঙ্গীচরে ছয় তলা থেকে পড়ে তরুণের মৃত্যু

১০

বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ

১১

চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

১২

দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৩

‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে বিইআরসি গণশত্রুতে পরিণত হবে’

১৪

মহাসড়কের ১০ স্পটে ভোগান্তির শঙ্কা

১৫

বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝেও নতুন উচ্চতায় ভারতের কূটনীতি

১৬

সিরিজ সেরা মুশফিক জানালেন কঠোর পরিশ্রমের কথা

১৭

পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা, নাগরিকতা ও নেতৃত্বের শিক্ষা

১৮

নিলামে আরও ১০০ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

১৯

ইসির বিচার করার হুঁশিয়ারি দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

২০