
(প্রতিবেদক নরসিংদী প্রতিনিধি)
চাচা-ভাতিজার বিরোধে প্রাণহানি, উদ্ধার হলো ৫টি রামদা ও ৪টি ছুরি
নরসিংদী প্রতিনিধি: ০৬ নভেম্বর, ২০২৫
জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের চরম পরিণতি দেখল নরসিংদীর রায়পুরা। গত শনিবার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নে বসতবাড়ির বেড়া ভাঙার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার, নরসিংদীর কঠোর নির্দেশনায় জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আপন চাচাসহ মোট ০৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
শনিবার (০১ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় রায়পুরা থানাধীন চরসুবুদ্ধি সাকিনে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ চরমে পৌঁছায়। নিহত শাকিল (২২) ও তার বড় ভাই হুরন আলী @ হুরা মিয়া (২৬)-এর সঙ্গে তাদের আপন চাচা আব্দুল আউয়াল (৭০)-এর পক্ষের ঝগড়া শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, তুচ্ছ বেড়া ভাঙাকে কেন্দ্র করে আউয়াল মিয়ার পক্ষের অতর্কিত হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন দুই ভাই। তাদের দ্রুত নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশি তৎপরতা ও গ্রেপ্তার
এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পরদিন, ০২/১১/২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে রায়পুরা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-০২) রুজু করা হয়। হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ একাধিক দল গঠন করে।
মূল আসামীদের জালে
আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর, ২০২৫) সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রায়পুরা থানাধীন সাপমারা এলাকা থেকে অন্যতম ০৩ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়:
* আব্দুল আউয়াল (৭০): নিহতদের আপন চাচা এবং মামলার অন্যতম প্রধান আসামী।
* শিপন শিকাদার (৩৫): সহযোগী আসামী।
* শাহানাজ বেগম (৩২): আব্দুল আউয়ালের মেয়ে।
আগের গ্রেপ্তার
এর আগে, ঘটনার দিনই রায়পুরা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ০৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া গত মঙ্গলবার (০৪ নভেম্বর) অন্যতম প্রধান আসামী, নিহতদের আপন চাচাতো ভাই শিপন (২৫)-কেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মোট গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার
নরসিংদী জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই জোড়া খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ০৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া, সংঘর্ষে ব্যবহৃত ০৫টি দেশীয় রামদা এবং ০৪টি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সকল আসামিকে আইনানুযায়ী বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার, নরসিংদী, এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।






















