অনলাইন ডেস্ক
১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

সত্যিই কি রাশিয়ায় পাহাড় সমান অস্ত্র পাঠিয়েছে ইরান?

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রায় চার বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রশিয়া। এই যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা দিতে ইরান বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এক পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তার মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মস্কোর কাছে ইরান প্রায় ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। এই চুক্তিগুলো ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর আগেই সম্পন্ন হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ার কেনা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে শত শত ফাতাহ–৩৬০ স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, প্রায় ৫০০টি অন্যান্য স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২০০টি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই মস্কো ও তেহরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এই যুদ্ধ রাশিয়ার ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ডেকে এনেছে এবং শীতল যুদ্ধের পর পশ্চিমাদের সঙ্গে মস্কোর সবচেয়ে বড় সংঘাতে রূপ নিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে আরও গভীর হয়েছে ইরান ও পশ্চিমাদের দ্বন্দ্ব।

এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। একইভাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ইন্টারনেট ব্যবহারে কড়াকড়ি ও কার্যত ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতি বিরাজ করায় যোগাযোগ আরও সীমিত হয়ে আছে দেশটিতে।

আরও পড়ুন  রাজধানীতে বাসে আগুন

মূল্যায়নে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ইরান রাশিয়াকে লাখ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ ও শেল সরবরাহ করেছে। তবে এটিই রাশিয়ার কেনা সব সামরিক সরঞ্জামের পূর্ণ চিত্র নয়; ভবিষ্যতে আরও সরঞ্জাম সরবরাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।

এর আগে রাশিয়াকে শাহেদ–১৩৬ ‘কামিকাজে’ ড্রোন সরবরাহ করে তেহরান এবং সেই প্রযুক্তিও হস্তান্তর করে, যার মাধ্যমে রাশিয়া নিজ দেশে ‘গেরান–২’ নামে ড্রোন উৎপাদন শুরু করে। ২০২৩ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত ১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি অনুযায়ী এই সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করা হয়।

সব মিলিয়ে ২০২১ সালের শেষ দিক থেকে ইরানি সামরিক সরঞ্জাম কিনতে রাশিয়া চার বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে বলে ওই মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়। ইরান সরকার বর্তমানে দেশজুড়ে চলমান সহিংস বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করছে।

পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের চাপের মুখে পড়ে ২০১০-এর দশক থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা শুরু করে দেশটি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তাতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির কোনও ধারা ছিল না। সূত্র:

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাহাজ আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ ও বর্বর’ পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘে অভিযোগ ইরানের

ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

তেল-গ্যাস সংকটে যেন কেউ সিন্ডিকেট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে সরকার: রিজভী

কাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে কৃষক-ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া হবে

সন্ধ্যার মধ্যে চার অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

বিগত স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাচ্চাদের জন্য টিকা আনেনি: প্রধানমন্ত্রী

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

১০

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে আরও ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র

১১

জামালপুরে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

১২

জাতীয় সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

১৩

রাজধানীর গুলশানে সিসাবারে অভিযান, সেবন সামগ্রী জব্দ

১৪

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

১৫

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

১৬

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

১৭

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

১৮

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

১৯

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

২০