
বরগুনায় যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতন, স্বামী খোকনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
রনি মল্লিক বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনায় যৌতুকের টাকার দাবিতে স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. খোকন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নির্যাতিত স্ত্রী ফিরোজা বেগম বর্তমানে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সদর উপজেলার বুড়িরচড় ইউনিয়নের ছোট লবনঘোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে পশ্চিম বুড়িরচড় গ্রামের বারেক মৃধার মেয়ে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে ছোট লবনঘোলা গ্রামের আবদুল রব হাওলাদারের ছেলে খোকন হাওলাদারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে খোকন হাওলাদার পরিরখাল মাইঠা গ্রামে রুবি নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বিতীয় স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর থেকেই খোকন প্রথম স্ত্রী ফিরোজার কাছে বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকা দাবি করতে থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, খোকন হাওলাদার জুয়া ও মাদকাসক্ত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফিরোজা বেগমকে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন করে আসছেন। গত এক মাসে অন্তত চারবার মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও একাধিকবার তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। স্থানীয়রা নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নির্যাতিত ফিরোজা বেগমের বাবা রফেজ মৃধা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি গরিব মানুষ। যৌতুকের টাকার জন্য আমার মেয়েকে বারবার মারধর করে। গত মাসে ধারকর্জ করে এক লাখ টাকা দিয়েছি। এরপরও আবার টাকার জন্য মারধর করেছে। আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত খোকন হাওলাদারের সাক্ষাৎকার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন