অনলাইন ডেস্ক
৩ মার্চ ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

‘সমঝোতার’ চাঁদা এবং আড়তের ৩৭ টাকার বেগুন ঢাকায় ১০০

পথে পথে চাঁদাবাজি যেন সবজির দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। যে বেগুন উৎপাদনে আড়ত পর্যায়ে ৩৭ টাকা, ঢাকায় এসে তা হয়ে যাচ্ছে ১শ’ টাকা। সব-ই যেন একটি চাঁদাবাজির শৃঙ্খলে আবদ্ধ।

৩শ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী উত্তরের সবচেয়ে বড় সবজির বাজার বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজি আর কাঁচা তরকারি নিয়ে আসেন কৃষক। এখানেই ঠিক হয় দর। ধরণভেদে এক মন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৫শ’ টাকায়। কেজির হিসাব ধরলে তা ৩৫ থেকে ৩৭ টাকা। শসার দামও কেজিতে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা।

কৃষকের বিক্রি করা সবজি পাইকারি আর খুচরা বাজারে না গিয়ে খোদ হাটেই ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে একটি স্লিপ। প্রতি মণের জন্য দিতে হচ্ছে ২০ টাকা চাঁদা। খাজনার নামে এই চাঁদা থেকে বাঁচতে কেউ কেউ সরাসরি মাঠ থেকে কৃষিপণ্য ট্রাকে তোলেন। তাতেও যেন রক্ষা নেই। এখানেও হাজির চাঁদা আদায়কারীরা।

একজন ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের যে খরচটা দিবো এর থেকে চাঁদার পরিমাণটা বেশি। বাজারে পণ্য খালাস করার খরচ ৫শ’ টাকা কিন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে ১০০০ টাকা।

সবজি পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ভোক্তভোগী ট্রাক চালক কাশেম বলেন, পথে পথে হুট করে ট্রাক দাঁড় করিয়ে একটি স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে টাকা নেয়া হয়। তা না হলে কেউ যেতে পারে না।

শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইজারাদার তাহেরুল ইসলামের নামে স্লিপে নেওয়া হচ্ছে টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁদার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, কোথায় সেটা? আমাদের লোকজন কোনো খাজনা আদায় করে না। আমার নামে কুৎসা রটাতে স্লিপ বানিয়ে এটা করা হতে পারে।

আরও পড়ুন  বন্দর চুক্তি: বন্ধ হোক অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক

একই চিত্র সিরাজগঞ্জে-ও। ব্যবসায়ী কিংবা ট্রাক চালক, সকলের কাছ থেকেই নেওয়া হচ্ছে স্লিপ দিয়ে চাঁদা। এটি কী সমঝোতার চাঁদা, এই প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে কোনো সমঝোতার বিষয় নেই। আমাদের কাছে এ বিষয়ে কেউ কোনো কিছু বলে নাই। আমরা এগুলোকে প্রশ্রয়ও দিচ্ছি না। আমাদের কথা হচ্ছে চাঁদাবাজি হলেই সেটা বন্ধ। এখানে সমঝোতা বলে কিছু নাই। যারা রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় টাকা সংগ্রহ করছে তারা চাঁদাবাজি করছে।

পথের চিত্র লক্ষ্য করতে গেলে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সবজির ট্রাক হতে গাজীপুর পার হতেই ব্রিজের দোহাই দিয়ে নেয়া হচ্ছে ট্রাক প্রতি দুইশ টাকা। সড়ক ও জনপদের টোল নামে ম্যানুয়ালি এ চাঁদা নেয়া হয় একেক সময় একেক স্পট থেকে।

ঢাকার পাইকারি আড়তে আসার পর নগরবাসীর জন্য পণ্যের দর ঠিক করেন আড়তদাররা। পথে পথে সমঝোতার চাঁদাবাজির ফলে সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ, তিনগুণ।

প্রশ্ন আসে, হাটে-বাজারে-আড়তে-সড়কে আর মহাসড়কে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য কি কমেছে আদৌ? সমঝোতায় নেয়া টাকাকে চাঁদা বলতে না চাইলেও এর প্রভাব কি পণ্যমূল্যে পড়ে না? কতটা পড়ে?

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাহাজ আটকের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘অবৈধ ও বর্বর’ পদক্ষেপের জন্য জাতিসংঘে অভিযোগ ইরানের

ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্ভুক্ত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রুল

শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

তেল-গ্যাস সংকটে যেন কেউ সিন্ডিকেট করতে না পারে, তা নিশ্চিত করবে সরকার: রিজভী

কাল থেকে শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নেবে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী

পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে কৃষক-ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জনগণকে দেওয়া হবে

সন্ধ্যার মধ্যে চার অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

বিগত স্বৈরাচার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাচ্চাদের জন্য টিকা আনেনি: প্রধানমন্ত্রী

হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে এপ্রিল-মে মাসের পূর্ণ জ্বালানি সক্ষমতা রয়েছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

১০

রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে বাংলাদেশকে আরও ৬০ দিনের ছাড় দিলো যুক্তরাষ্ট্র

১১

জামালপুরে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু

১২

জাতীয় সংকট উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

১৩

রাজধানীর গুলশানে সিসাবারে অভিযান, সেবন সামগ্রী জব্দ

১৪

শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে

১৫

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

১৬

সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী বিএনপির শহিদ পরিবারের সদস্য ছাত্রদলের শারমিন সুলতানা রুমা

১৭

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

১৮

মানবাধিকার কমিশনের সব সদস্যের পদত্যাগ

১৯

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন

২০