বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংস্কারের বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ তার সঙ্গে একাকার করে দেখা উচিত হবে না। চাইলেই রাতারাতি অনেক প্রকল্প বাতিল করা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংস্কারের বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ তার সঙ্গে একাকার করে দেখা উচিত হবে না। চাইলেই রাতারাতি অনেক প্রকল্প বাতিল করা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন ও সুপারিশ তুলে ধরেন টিআইবির কো-অর্ডিনেটর (এনার্জি) নেওয়াজুল মওলা ও অ্যাসিসট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর আশনা ইসলাম।
এতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশে অনেক বেশি ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ভারত-পাকিস্তানে ইউনিট প্রতি ৩ সেন্ট, চীনে ৪ সেন্ট খরচ পড়ছে। সেখানে বাংলাদেশের গড় উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১২ সেন্ট।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় প্রকল্প ব্যয় হয় ৮ কোটি টাকার মতো। সেখানে ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর গবেষণায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার ওপরে ব্যয় দেখানো হয়েছে। ওই প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনের চেয়ে ২ হাজার ৯২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় বিভ্রান্তির তথ্য উঠে এসেছে টিআইবির গবেষণায়। এতে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ এ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০৩০ সালে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে ৩০ শতাংশ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে আইপিএমপিতে ২০৩০ সালে ১০ শতাংশ ২০৫০ সালে ৪০ শতাংশ, বিসিপিবি-২০২২ এ ২০৫০ সালে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার এনডিসি, বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ভিন্ন রকম লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেভাবে গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের এলওআই বাতিল করা হলেও, ফসিল ফুয়েলের বাতিল হওয়া প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ফসিল ফুয়েলের মতোই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও নানানরকম দুর্নীতি হয়েছে। প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখানে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি সেভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
মন্তব্য করুন