
দেওয়ানগঞ্জ-এ রহিমপুর বেনোয়ারচরে অবৈধ ড্রেজার উচ্ছেদ
অভিযান চালিয়ে পাইপ খুলে দিল প্রশাসন, কঠোর হুঁশিয়ারি
প্রকাশিত নিউজ: ২৩-০২-২০২৬
সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামরামপুর ইউনিয়ন-এর রহিমপুর বেনোয়ার চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি উত্তোলনের অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এক অভিযানে ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে এর সঙ্গে সংযুক্ত পাইপ খুলে ফেলা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
দীর্ঘদিনের অভিযোগ, কৃষিজমি হুমকির মুখে:
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র বেশ কিছুদিন ধরে চরাঞ্চলের আবাদি জমিতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছিল। এসব মাটি ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হতো। ফলে এলাকার উর্বর কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এবং ফসল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এলাকাবাসীর মতে, জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়ায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছিলেন। একই সঙ্গে জমির উচ্চতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে প্লাবনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও আশপাশের অবকাঠামোও হুমকির মুখে পড়ে।
লিখিত অভিযোগের পরও চলছিল কার্যক্রম:
এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত ২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ ও মাটি উত্তোলন বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক দফা হস্তক্ষেপ করা হলেও পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছিল না ড্রেজার কার্যক্রম। স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনের প্রাথমিক তৎপরতার পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরে আবারও ড্রেজার চালু করে মাটি উত্তোলন শুরু করা হয়।
অবশেষে অভিযানে ড্রেজার বন্ধ:
অভিযোগের প্রায় ২০ দিন পর, রবিবার উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশনায় রহিমপুর বেনোয়ার চরে অভিযান পরিচালিত হয়। পাররামরামপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এবং তারাটিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মাসুদ রানার নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাটি উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দীর্ঘ পাইপলাইন খুলে ফেলা হয়, যাতে পুনরায় কার্যক্রম চালু করা না যায়।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্টদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে প্রশাসন জানায়, ভবিষ্যতে কেউ অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে মাটি উত্তোলনের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও জব্দের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর স্বস্তি, নজরদারির দাবি:
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানান, দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর অবশেষে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় কৃষিজমি রক্ষা পাবে। তবে তারা অবৈধ মাটি উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারির দাবি জানান।
সচেতন মহল মনে করছে, চরাঞ্চলে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধে কঠোর মনিটরিং ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণই পারে কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে।
মন্তব্য করুন