
ঝিনাইগাতীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
দুই ব্যক্তির ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সরঞ্জাম জব্দ
সামরুল হক, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালিত এক অভিযানে দুই ব্যক্তিকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রাতের ঝটিকা অভিযান:
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমীনের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শুনানি শেষে তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা:
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—গান্দিগাঁও নতুন বাজার এলাকার আবুল কালাম ও মো. আল আমিন।
তাদের বিরুদ্ধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১৫(১) ধারায় এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
যন্ত্রপাতি জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা:
অভিযানকালে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন, পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, জব্দকৃত মালামাল আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইজারা বন্ধের সুযোগে সক্রিয় সিন্ডিকেট:
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, ঝিনাইগাতীসহ শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় বর্তমানে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে নদী ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে আসছিল।
এতে স্থানীয় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি, কৃষিজমি নষ্ট হওয়া এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়।
প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা:
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমীন বলেন—
“পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছি। আইন অমান্য করে কেউ বালু উত্তোলন বা পরিবহন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
নিয়মিত নজরদারি জোরদার;
ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং অবৈধ বালু সিন্ডিকেট নির্মূল করতে নিয়মিত নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দেরও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য প্রশাসনকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে সচেতন মহল স্বাগত জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন