
সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ দেশজুড়ে ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত
রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫.১, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলে
সামরুল হক: সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ শুক্রবার দুপুরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আকস্মিক এই কম্পনে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে দ্রুত বাইরে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি অঞ্চল, যা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পের কম্পন দেশের বিভিন্ন বিভাগ—চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশালসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়।
তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন এলাকায় ভবনের দেয়ালে হালকা ফাটল এবং বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের খবর মিলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকম্প নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল এলাকায় কারখানার শ্রমিকদের সাময়িকভাবে বাইরে বের করে আনা হয়। ধামরাইয়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশেষ করে রাজধানী ও তার আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং দুর্বল অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তারা ভবন নির্মাণে যথাযথ বিল্ডিং কোড অনুসরণ এবং নিয়মিত মহড়া পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অতীতের স্মৃতি
এই ভূমিকম্পটি গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার কাছাকাছি সংঘটিত ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের স্মৃতি নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। সে সময় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয় এবং কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার জন্যও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় খোলা স্থানে অবস্থান করা, লিফট ব্যবহার না করা এবং ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকার মতো প্রাথমিক নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী আপডেটের জন্য নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
মন্তব্য করুন