
নাটোরের গুরুদাসপুরে থানার ওসি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেই হাট ইজারাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
✍️ সামরুল হক, জামালপুর প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল অজিজের আস্থাভাজন বলেও পরিচিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে টেন্ডার জমা দেন ওবায়দুল ইসলাম তপু ও যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারাসংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা বাজারের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু। ইজারা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রাকিবুর রহমান রাজা।
সভা শেষে গুরুদাসপুর থানার ওসি এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাসহ সবাই ইউএনও অফিস থেকে বের হচ্ছিলেন। সে সময় ওসিসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই তপুর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা। সরকারি দপ্তরের সামনে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এমন ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।
ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু বলেন, হাটের ইজারা না পেয়ে ইউএনও অফিসের সামনে সকলের উপস্থিতিতে রাজা আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করব।
তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা রাজা বলেন, এক বছর আগে তপুর কাছে তার ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। সেই টাকাই তিনি চেয়েছেন। ‘পুলিশ প্রশাসন ও এত লোকের সামনে চাঁদা কেন চাইতে যাব?’- এমন মন্তব্য করেন তিনি।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, চাঁদা বা টাকা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে রাজা ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’ বলে মন্তব্য করেছেন। এরপরও তপু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য করুন